পরিবর্তনের বাংলাদেশেও আমরা বৈষম্যের শিকার, সংসদে তীব্র ক্ষোভ ডা. শফিকুর রহমানের

ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর – ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে বিরোধী দলের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। “পরিবর্তনের বাংলাদেশে কোনো ধরনের বৈষম্য দেখতে চাই না”— উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন নিয়ে সংসদ শুরু হলেও বাস্তবে বিরোধী দলের সদস্যরা এখনো অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনা, অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার নানা অসঙ্গতি তুলে ধরে এই বক্তব্য দেন।
সংসদ ও ফান্ড বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ
বিরোধীদলীয় নেতা সরাসরি অভিযোগ করেন যে, উন্নয়ন ফান্ড বরাদ্দের ক্ষেত্রে সরকার বিরোধী দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে।
ফান্ডে বৈষম্য: সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যরা বিশেষ তহবিল পেলেও বিরোধী দলের নারী সদস্যরা তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
জনগণের টাকা: “ট্রেজারিতে দেশের ১৮ কোটি মানুষই কর ও টাকা দেয়। কেবল দলীয় বা এলাকার পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে অধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
উপজেলা পরিষদে স্থান: সংসদ সদস্যদের স্থানীয় সরকারের কার্যালয় বা উপজেলা পরিষদে বসার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের জন্য স্বতন্ত্র ও পৃথক ব্যবস্থার আয়োজন করতে হবে।
শিক্ষা ও মেধা মূল্যায়নে সরকারের প্রতি কড়া বার্তা
শিক্ষাঙ্গনে অস্ত্রের রাজনীতি ও দখলদারিত্ব বন্ধের জোর দাবি জানিয়ে জামায়াত আমীর বলেন:
শিক্ষাঙ্গন দখল মুক্তকরণ: গণরুম, গেস্টরুম কালচার, প্রশ্ন ফাঁস এবং ক্যাম্পাসে অস্ত্রের ঝনঝনানি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের হাতে যেন আর কলমের বদলে অস্ত্র না ওঠে।
মেধার জয়গান: চাকরির নিয়োগে প্রশ্নবিদ্ধ লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর পরিবর্তনের অপচেষ্টা বন্ধ করার আহ্বান জানান। দলীয় অনুকম্পা নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব বণ্টন করতে হবে।
অর্থনীতি, শেয়ারবাজার ও শিল্প সংকটের করুণ চিত্র
- দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের শোচনীয় অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন:
- শিল্পে বিপর্যয়: তীব্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে।
- জরুরি প্রস্তাব: অন্য যেকোনো খাতের বরাদ্দ কাটছাঁট করে হলেও শিল্প খাত বাঁচানোর জন্য বিদ্যুৎ ও অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ জানান তিনি।
উদাহরণ টেনে ধরলেন নিজ এলাকার স্বাস্থ্য সেবার করুণ দশা
নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের জনবল সংকট উল্লেখ করে তিনি দেখান কীভাবে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে:
- চতুর্থ থেকে নবম গ্রেড: ৫০টি পদের মধ্যে রয়েছে মাত্র ১২ জন (৩৮টি পদই শূন্য)।
- ১১ থেকে ১৬তম গ্রেড: ৫৫টি পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ২২ জন।
ডা. শফিকুর রহমানের শেষ বার্তা: “সমাজ থেকে দুর্নীতি, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র কেবল নিয়ন্ত্রণ নয়—পুরোপুরি নির্মূল করতে হবে। তবেই দেশ মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারবে।”
এনএন/ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬







