ক্রিকেট

পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ টেস্টেও জিততে চায় ইংল্যান্ড

টেস্ট

লন্ডন ,৯ সেপ্টেম্বর- ইংল্যান্ডের ব্যস্ত ও নানা ঘটনায় ভরা টেস্ট গ্রীষ্মের শেষটা জয় দিয়ে করতে চায় দলটি। বুধবার এজবাস্টনে পাকিস্তানের বিপক্ষে শুরু হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে এরই মধ্যে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। এবার তাদের লক্ষ্য পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ শেষ করা।

তবে এই টেস্ট গ্রীষ্মে মাঠের ক্রিকেটের পাশাপাশি মাঠের বাইরের নানা ঘটনা ও দলে পরিবর্তন নিয়েও আলোচনায় ছিল ইংল্যান্ড। বেন স্টোকসের বিদায়, সাদা বলের ক্রিকেটে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের মনোযোগ এবং জো রুটের নেতৃত্বে টেস্ট দলে নতুনভাবে পথচলা—সব মিলিয়ে দলটি বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

এর মধ্যে খেলোয়াড়দের রাতভর পানাহারের ঘটনাও বিতর্ক তৈরি করেছে। মাঠের ক্রিকেটেও অবশ্য এবারের মৌসুম ছিল অন্যরকম। ডিউক বলের সুইং ও সিম মুভমেন্টের কারণে ব্যাটসম্যানদের তুলনায় বোলাররাই বেশি সুবিধা পেয়েছেন। ইংল্যান্ডের টেস্ট গ্রীষ্মে গড়ে প্রতি ৪০ বলে একটি করে উইকেট পড়েছে, যা ১৮৮০-এর দশকের পর সবচেয়ে কম।

ব্যাটিংয়েও ইংল্যান্ড খুব বেশি সাফল্য পায়নি। ট্রেন্ট ব্রিজে বেন ডাকেটের ১১৩ রানই এখন পর্যন্ত এই গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডের কোনো ব্যাটসম্যানের একমাত্র সেঞ্চুরি। বোলিংয়ে ওলি রবিনসন নিয়েছেন মাত্র ২৩ উইকেট। প্রতিটি উইকেটের জন্য তাঁর গড়ে খরচ হয়েছে ৮ রান।

অধিনায়ক জো রুটও ব্যাট হাতে এবারের গ্রীষ্মে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। তাঁর ব্যাটিং গড় ৩০-এর নিচে। বেশ কয়েকবার এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হওয়াও নজরে এসেছে। তবে রুট মনে করেন, ব্যাটসম্যানদের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা বিচার করার সময় এবারের বোলিং-সহায়ক পরিবেশও মাথায় রাখা হবে। ডিসেম্বরের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পরিকল্পনা করার সময়ও বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জ্যাকব বেথেল চোট থেকে ফিরে এলে ইংল্যান্ডের সেরা সাত ব্যাটসম্যানের জায়গা নিয়ে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে। তবে এমিলিও গে, জর্ডান কক্স ও ড্যান লরেন্সের মতো ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দলের প্রয়োজনকে আগে রাখার বার্তা দিয়েছেন রুট।

এজবাস্টনের উইকেট নিয়েও আগ্রহ রয়েছে। সেপ্টেম্বরে এই মাঠে প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উইকেটের রং কিছুটা বাদামি এবং ঘাসও তুলনামূলকভাবে কম। তবে শরতের আবহাওয়া ও আকাশের অবস্থা বল সুইংয়ের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতেও এ মাঠে বল সুইং করতে দেখা গেছে।

ইংল্যান্ডের প্রস্তুতিতে আরেকটি পরিবর্তন এসেছে মানসিক দিক থেকে। দলে ফিরেছেন ক্রীড়া মনোবিজ্ঞানী ডেভিড ইয়ং। ২০১৯ বিশ্বকাপজয়ী ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। তবে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের অধীনে টেস্ট দলে তাঁর প্রয়োজন হয়নি, কারণ খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতির বিষয়টি কোচ নিজেই বড়ভাবে দেখভাল করতেন।

অন্যদিকে পাকিস্তান আরও বেশি পরিবর্তন নিয়ে শেষ টেস্টে নামছে। সফরের শেষ সপ্তাহে দল থেকে সাতজন খেলোয়াড় এবং দুই কোচকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সংখ্যক নতুন সদস্যকে দলে নেওয়া হয়েছে। খেলোয়াড়দের আচরণ ও শৃঙ্খলা নিয়ে তদন্তের পাশাপাশি একটি ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।

এত পরিবর্তনের মধ্যেও পাকিস্তানের জন্য কিছুটা সুযোগ দেখছেন জো রুট। ইংল্যান্ডের কোচিং স্টাফ নতুন খেলোয়াড়দের সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য না জানায় পাকিস্তান চমক দেখানোর সুযোগ পেতে পারে। অধিনায়ক বাবর আজমও দলের সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও শৃঙ্খলাজনিত বিষয়গুলো থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। তাঁর মতে, এই টেস্ট তরুণ ক্রিকেটারদের নিজেদের প্রমাণ করার ‘সোনালি সুযোগ’।

পাকিস্তানের দুই তরুণ পেসার উবায়েদ শাহ ও রাজাউল্লাহ নতুন বলে গতি দিয়ে ইংল্যান্ডকে সমস্যায় ফেলতে পারেন। তাঁদের সঙ্গে থাকবেন অভিজ্ঞ মোহাম্মদ আব্বাস। আর ওপেনার সাইম আইয়ুবের অফ-স্পিন পাকিস্তানকে দিতে পারে বাড়তি একটি বিকল্প।

সবকিছু মিলিয়ে ইংল্যান্ডের লক্ষ্য থাকবে দলের চারপাশের অস্থিরতা পেছনে রেখে শেষ টেস্টেও জয় তুলে নেওয়া। আর একের পর এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আসা পাকিস্তান চাইবে অন্তত একটি ম্যাচ জিতে সফর শেষ করতে।

এস এম/ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button