বাদামি নাকি সাদা: কোন ডিম বেশি পুষ্টিকর?

সুপারশপ কিংবা বাজারে ডিম কিনতে গিয়ে অনেকেই দ্বিধায় ভোগেন যে কোন রঙের ডিমটি বেশি পুষ্টিকর হবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত একটি ধারণা রয়েছে যে বাদামি ডিম বেশি পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু। আবার অনেকে মনে করেন সাদা ডিম বেশি পরিচ্ছন্ন। তবে পুষ্টিবিদ ও বিজ্ঞানীদের মতে ডিমের খোসার রঙের সঙ্গে এর পুষ্টিগুণের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
মূলত মুরগির জাত ও বংশগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই ডিমের খোসার রঙ আলাদা হয়ে থাকে। সাদা কিংবা বাদামি কোনো রঙের ডিমকেই শুধু রঙের কারণে অধিক পুষ্টিকর বলা বিজ্ঞানসম্মত নয়।
চিকিৎসকদের মতে ডিমের খোসার রঙ প্রধানত নির্ভর করে মুরগির জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের ওপর। সাধারণত হোয়াইট লেগহর্ন বা কর্নিশ জাতের মুরগি সাদা ডিম পাড়ে। অন্যদিকে রোড আইল্যান্ড রেড বা নিউ হ্যাম্পশায়ার জাতের মুরগি বাদামি রঙের ডিম দেয়। এমনকি দক্ষিণ আমেরিকায় এমন কিছু জাতের মুরগি পাওয়া যায় যারা নীল বা নীলচে সবুজ রঙের ডিম পাড়ে। মুরগির শরীরে থাকা বিশেষ রঞ্জক পদার্থের কারণে এই রঙের পার্থক্য ঘটে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী খোসার রঙ যা-ই হোক না কেন ডিমের মৌলিক পুষ্টিগুণে কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকে না। ডিমের স্বাদের ক্ষেত্রেও খোসার রঙ প্রভাব ফেলে না। বরং মুরগি কী ধরনের খাবার খাচ্ছে এবং ডিমটি কতটা সতেজ তার ওপর স্বাদ নির্ভর করে।
ডিমের পুষ্টিমান মূলত নির্ভর করে মুরগির পালন পদ্ধতি ও খাদ্যাভ্যাসের ওপর। খোসার রঙের চেয়ে মুরগির খাদ্য ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বাজারে বাদামি ডিমের দাম কিছুটা বেশি হওয়ার পেছনে ঐতিহাসিক কিছু কারণ রয়েছে। অতীতে বাদামি ডিম দেওয়া মুরগিগুলো আকারে বড় হওয়ায় তাদের পেছনে খরচ বেশি হতো যা দামের ওপর প্রভাব ফেলত। তাই ডিম কেনার সময় রঙের দিকে না তাকিয়ে এর সতেজতা ও মানের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। পরিষ্কার ও অক্ষত খোসার সতেজ ডিম বেছে নেওয়া স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের জন্য অধিক কার্যকর।
এনএন/ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬







