কিমের কাছে ৫৭টি পারমাণবিক বোমা রয়েছে বলে দাবি করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ২০ আগস্ট – যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সংগ্রহে বর্তমানে অন্তত ৫৭টি শক্তিশালী পারমাণবিক বোমা রয়েছে। হোয়াইট হাউসে একটি নতুন হেলিপ্যাডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই বিস্ফোরক তথ্য জানান।
ট্রাম্পের মতে, পিয়ংইয়ংয়ের এই নেতার হাতে বিপুল পরিমাণ মারণাস্ত্র থাকায় তার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্ব রাজনীতির এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদের দুর্বল নীতির সমালোচনা করেন।
তিনি অভিযোগ করেন যে বাইডেন প্রশাসনের কারণেই উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক শক্তি বৃদ্ধির সুযোগ পেয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন যে তিনি নিজে সেই সময় ক্ষমতায় থাকলে এই পরিস্থিতি তৈরি হতে দিতেন না। তবে বর্তমান বাস্তবতা স্বীকার করে তিনি বলেন যে কিম জং উন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সফল হয়েছেন এবং সেগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, যেকোনো পরিস্থিতিতে কিম জং উনের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ থাকা একটি ইতিবাচক দিক। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন যে তিনি কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক শক্তির মালিক হতে দেবেন না। তবে কিমকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চেনেন এবং বিশ্বাস করেন যে পিয়ংইয়ং পরিস্থিতি সামলে নিতে সক্ষম হবে।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে ট্রাম্প ও কিম জং উনের মধ্যে আবারও উচ্চপর্যায়ের শীর্ষ বৈঠক হতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে যে আগামী নভেম্বরে চীন সফরকালে এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন বা অ্যাপেক সম্মেলনের সুযোগে এই দুই নেতার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এই সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়ে তার আগ্রহের কথা সরাসরি ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য যে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি দায়িত্বরত অবস্থায় উত্তর কোরিয়ার কোনো নেতার সঙ্গে সশরীরে বৈঠক করেছেন।
ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে কিমের সঙ্গে মোট তিনবার ঐতিহাসিক বৈঠকে অংশ নেন। ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে প্রথম এবং ২০১৯ সালে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে দ্বিতীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৯ সালের জুনে দুই দেশের সীমান্তবর্তী বেসামরিক এলাকায় তারা তৃতীয়বারের মতো মিলিত হন যেখানে ট্রাম্প প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ডে পা রাখেন।
এস এম/ ২০ আগস্ট ২০২৬









