উত্তর ইরাকের গ্যাসক্ষেত্রে ড্রোন হামলা ও এরবিলে ব্যাপক বিস্ফোরণ

বাগদাদ, ২৮ জুলাই – উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের খোর মোর গ্যাসক্ষেত্রে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দিবাগত গভীর রাতে সুলাইমানিয়া প্রদেশে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
এই গ্যাসক্ষেত্রটি কুর্দি অঞ্চলের অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত। একই সময়ে খোর মোর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কুর্দি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের রাজধানী এরবিলে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে বিস্ফোরণের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করা গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, এরবিলে মার্কিন কনস্যুলেটের নিকটবর্তী এলাকাসহ অন্তত সাতটি স্থানে বিস্ফোরণ ঘটেছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুলিশ সূত্র জানায়, এরবিলের উত্তর পূর্বাঞ্চলের খালিফান ও সোরান এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে অন্তত চারটি ইরানি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন। হামলার পরপরই এরবিলের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের ১০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন টহল দিতে শুরু করে। লক্ষ্যবস্তু করা এলাকাগুলোতে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে এবং দুটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুর কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।
সম্প্রতি টানা ১৩ দিন হামলার পর গত শুক্রবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান স্থগিত রয়েছে। এই বিরতির মধ্যেই উত্তর ইরাকে নতুন করে ড্রোন হামলার ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো হামলার বিরতিকে অস্ত্র সংকটের কারণ হিসেবে দাবি করলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অনুরোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার মিশিগান সফরের পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে এবং ভালো কিছু ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
এনএন/ ২৮ জুলাই ২০২৬









