ইসলামী ও চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকে খেলাপি ঋণের উল্লম্ফন ও তীব্র তারল্য সংকট

ঢাকা, ২৮ জুলাই – দেশের পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক এবং চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও তারল্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ব্যাংকিং খাতের মধ্যে এই দুই ধরনের ব্যাংক বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
২০২৬ সালের মার্চ শেষে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে এই হার ছিল ২৯ দশমিক ২ শতাংশ অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একইভাবে ২০১৩ সালে কার্যক্রম শুরু করা নয়টি চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৫২ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ ব্যবস্থাপনার কারণে এই দুই শ্রেণির ব্যাংক তীব্র তারল্য চাপে রয়েছে।
মার্চ শেষে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোর অ্যাডভান্স টু ডিপোজিট রেশিও বা এডিআর দাঁড়িয়েছে ১২০ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর গড় এডিআর ১০১ দশমিক ৬ শতাংশ। কয়েকটি ব্যাংকের এডিআর ১০০ শতাংশেরও বেশি যা আমানতের তুলনায় অতিরিক্ত ঋণ বিতরণের প্রমাণ দেয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে পুরো ব্যাংকিং খাতের গড় এডিআর বর্তমানে ৮২ দশমিক ৭ শতাংশ যা তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক। গত বছর তীব্র তারল্য সংকট এবং ঋণ অনিয়মের প্রেক্ষাপটে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠন করা হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করে বলেছে যে ইসলামী ও চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোতে সুশাসনের ঘাটতি দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে।
প্রতিবেদনে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এনএন/ ২৮ জুলাই ২০২৬









