ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে ইরানের বিরুদ্ধে বড় হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ২৬ জুলাই – মধ্যপ্রাচ্যে পেন্টাগনের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের ঘাটতিই এই কৌশলগত সিদ্ধান্তের মূল কারণ।
বর্তমানে নতুন কোনো বৃহৎ সামরিক অভিযানে নামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে হোয়াইট হাউস। ট্রাম্প ও তার শীর্ষ সহযোগীরা আশঙ্কা করছেন যে এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং উপসাগরীয় মিত্ররা ইরানি পাল্টা হামলার মুখে পড়তে পারে।
এছাড়া বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং শরণার্থী সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা নিয়েও তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের এক গোপন বৈঠকে পেন্টাগনের সামরিক সরঞ্জামের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনার পর ট্রাম্প তার পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি জর্ডানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে এবং এতে তিন মার্কিন সেনা নিহত হন। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করেছেন যে বড় আকারের অভিযান চালালে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বিপজ্জনকভাবে শেষ হয়ে যাবে।
হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেং জানান যে প্রেসিডেন্ট সবসময় কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে থাকলেও সব পথই খোলা রয়েছে। পেন্টাগন এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে ১,২০০ এর বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে যার প্রতিটির মূল্য ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি। এমন পরিস্থিতিতে বড় হামলার পরিবর্তে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা এখন দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও আলোচনার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এস এম/ ২৬ জুলাই ২০২৬









