উত্তর আমেরিকা

সাংবাদিকদের নৈশভোজে ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র আক্রমণ ও বিদ্রূপ

ওয়াশিংটন, ২৬ জুলাই – যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতির বার্ষিক নৈশভোজে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে তীব্র ব্যক্তিগত আক্রমণ ও বিদ্রূপ করেছেন। ওয়াশিংটনের ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ভাষণ দেন তিনি।

তবে প্রথাগত হাসির পরিবর্তে ট্রাম্পের বক্তব্যে মিলনায়তনে এক ধরনের অস্বস্তিকর নীরবতা বিরাজ করছিল। এর আগে গত এপ্রিল মাসে বন্দুকধারীর হামলার আশঙ্কায় অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে গিয়েছিল। সেই ঘটনার পর নতুন করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আবারও সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দেন।

বিশেষ করে প্রশাসনের ভেতরের তথ্য ফাঁস রোধে সাংবাদিকদের ওপর চাপ প্রয়োগের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, সামনের সারিতে বসা সমালোচক সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ট্রাম্প তার নির্বাচনী জনসভার ঢঙেই আক্রমণাত্মক বক্তব্য পেশ করেন।

ভাষণের শুরুতে সামান্য হাস্যরসের চেষ্টা থাকলেও দ্রুতই তা ব্যক্তিগত আক্রমণে রূপ নেয়। সিএনএনের সাংবাদিক ক্যাটলান কলিন্সকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার পাশাপাশি সাবেক গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টি ও কংগ্রেস সদস্য জেরি ন্যাডলারকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেন তিনি।

ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফকে আক্রমণ করে তিনি আপত্তিকর বিশেষণে ভূষিত করেন। অধিকাংশ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা তার এসব বক্তব্য নিরাবেগভাবে শুনেছেন। ঐতিহ্য অনুযায়ী এই অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্টরা নিজেদের দুর্বলতা নিয়ে কৌতুক করলেও ট্রাম্প তার বিপরীতে সংবাদমাধ্যমকে আক্রমণ করতেই বেশি সময় ব্যয় করেন।

তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে এটি ট্রাম্পবিরোধী মানুষের সবচেয়ে বড় সমাবেশ এবং তিনি তাদের সমালোচনা চালিয়ে যাবেন। এ সময় তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলের পুরোনো স্মৃতিও রোমন্থন করেন। এদিকে সোসাইটি অব প্রফেশনাল জার্নালিস্টস এই অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের উপস্থিতির সমালোচনা করে একটি খোলা চিঠি দিয়েছে।

সেখানে ট্রাম্পের সাংবাদিকবিরোধী অবস্থানকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করা হয়। সব মিলিয়ে এই অনুষ্ঠানটি আবারও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এস এম/ ২৬ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language