জাতীয়

দেশের ছয় জেলায় বন্যার শঙ্কা, দুই পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে কুশিয়ারা

ঢাকা, ১৮ জুলাই – উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে পানির স্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে কুশিয়ারা নদীর পানি দুটি পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে দেশের অন্তত ছয়টি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

শনিবার প্রকাশিত এক বুলেটিনে সংস্থাটি জানায় যে ব্রহ্মপুত্র এবং যমুনা অববাহিকার পানি আগামী পাঁচ দিন অব্যাহতভাবে বাড়তে পারে। এর ফলে ২০ জুলাই থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ এবং টাঙ্গাইল জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

বর্তমানে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং সুনামগঞ্জের মারকুলিতে তা বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপরে অবস্থান করছে।

এদিকে উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতিও আশঙ্কাজনক। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর পয়েন্টে পানি বর্তমানে সতর্কসীমায় অবস্থান করছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আগামী তিন দিন সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

মূলত উজানের ভারী বৃষ্টিপাতই এই বন্যা পরিস্থিতির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নীলফামারীর ডালিয়ায় সর্বোচ্চ ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ভারতের মেঘালয়ের মৌসিনরামে ৩৮৯ মিলিমিটার এবং চেরাপুঞ্জিতে ২৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে যে লঘুচাপ দুর্বল হয়ে পড়লেও এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকদিন ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে ২০ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

এনএন/ ১৮ জুলাই ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language