মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

তেহরান, ১৫ জুলাই – ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইরানের উপকূলীয় ও দক্ষিণাঞ্চলে ধারাবাহিক মার্কিন বিমান হামলার জবাবে এবার কুয়েত, বাহরাইন এবং জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি এবং দেশটির নিয়মিত সেনাবাহিনী আর্তেশ যৌথভাবে এই বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। আইআরজিসির প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, তাদের বিশেষ সামরিক অভিযান নাসর ২ এর আওতায় কুয়েতের মিনা আবদুল্লাহ এলাকায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রধান লজিস্টিক সেন্টার কেজেএল সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।
এই কেন্দ্রটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর রসদ সরবরাহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল বলে দাবি করেছে ইরান। এছাড়া কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার ব্যবস্থা, প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি এবং হিমার্স লঞ্চার লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
হামলার পর কুয়েতের জনগণের উদ্দেশে এক বার্তায় আইআরজিসি জানিয়েছে, কুয়েতের সাথে তাদের কোনো শত্রুতা নেই। তবে মার্কিন আগ্রাসন রুখতে কুয়েতের মাটি থেকে বিদেশি ঘাঁটি অপসারণ জরুরি। একই সময়ে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতরেও জোরালো আঘাত হেনেছে ইরান।
আইআরজিসির ১২তম বুলেটিনে জানানো হয়, বাহরাইনে মার্কিন নৌবহরের জাতীয় নিরাপত্তা তথ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, কমান্ড ও কন্ট্রোল ইউনিট এবং জ্বালানি ডিপোগুলোতে নিখুঁত নিশানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ ও আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করার মার্কিন চেষ্টার প্রতিবাদে এই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানায় তেহরান।
ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, আঞ্চলিক তেল ও গ্যাস রপ্তানির সুবিধা সবাই সমানভাবে না পেলে হরমুজ প্রণালী কঠোরভাবে বন্ধ রাখা হবে। অন্যদিকে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিগুলোতেও ধ্বংসাত্মক হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড।
জর্ডানের আল আজরাক বিমানঘাঁটিতে তীব্র হামলায় মার্কিন বাহিনীর এফ ১৫ ও এফ ৩৫ যুদ্ধবিমানের বিশেষ হ্যাঙ্গার এবং অত্যাধুনিক এমকিউ ৯ ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে আইআরজিসি। এরপর নিয়মিত সেনাবাহিনীর সায়েকাহ ৮ অভিযানের অধীনে ওই একই বিমানঘাঁটিতে দ্বিতীয় দফায় ড্রোন হামলা চালানো হয়।
জর্ডানের নাগরিকদের প্রতি ভ্রাতৃত্বের বার্তা দিয়ে ইরান অনুরোধ করেছে যেন তাদের পবিত্র ভূমি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়া হয়।
এস এম/ ১৫ জুলাই ২০২৬









