‘খামেনির জন্য নয়, তার হাতে নিহত ৪০ হাজার সন্তানের জন্য কাঁদছে ইরান’: নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি

তেহরান, ৪ জুলাই – ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানে যখন রাষ্ট্রীয় জাঁকজমক আর প্রোপাগান্ডার মহড়া চলছে, তখন একে সম্পূর্ণ ‘ভুয়া’ ও ‘জনগণের টাকার শ্রাদ্ধ’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন দেশটির নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি। ইরানের শেষ শাহ শাসকের এই ছেলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সাধারণ ইরানিরা খামেনির জন্য বিন্দুমাত্র শোক প্রকাশ করছেন না; বরং খামেনির নির্দেশে নিহত হওয়া দেশের হাজার হাজার সন্তানের জন্য তারা আজ শোকাহত।
শনিবার (৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ একটি বিস্ফোরক পোস্টের মাধ্যমে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে এই বার্তা দেন পাহলভি।
আয়াতুল্লাহ খামেনির কফিনে শ্রদ্ধা জানাতে আসা আরব ও মুসলিম বিশ্বের নেতা এবং চীন-রাশিয়ার প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্য করে রেজা পাহলভি তাঁর পোস্টে লেখেন: “নিহত স্বৈরশাসক খামেনির প্রতি শোক জানাতে তেহরানে যেসব বিদেশি প্রতিনিধিরা এসেছেন তাদের বলছি— ইরান তার (খামেনি) প্রতি কোনো শোক জানাচ্ছে না।”
তিনি সরাসরি দাবি করেন, এই শোকের আবহ তৈরিতে বর্তমান ইরানি সরকার দেশের সাধারণ মানুষের বিপুল অর্থ অপচয় করছে। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, বিশ্বের একজন গণতান্ত্রিক নেতাও এই ভণ্ডামির আয়োজনে যোগ দেননি।
ইরানের অভ্যন্তরীণ দমনপীড়নের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে সাবেক এই ক্রাউন প্রিন্স আরও লেখেন, “গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি খামেনি, বাঘের ঘালিবাফ এবং তাদের নিপীড়নকারী রাষ্ট্রযন্ত্র ইরানের যে ৪০ হাজার সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, আজ ইরানিরা মূলত তাদের জন্যই সত্যিকারের শোক প্রকাশ করছেন।”
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী এক অভূতপূর্ব ও বিশাল বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০২৬ সালের জানুয়ারির শুরুর দিকে ইরান সরকার অত্যন্ত কঠোর ও নিষ্ঠুর হস্তে সেই বিক্ষোভ দমন করে। বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, শুধুমাত্র চলতি বছরের ৮ ও ৯ জানুয়ারি—এই দুদিনেই ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী গুলি করে প্রায় ৪০ হাজার বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার চার মাস পর যখন ইরান তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিদায় দিচ্ছে, তখন নির্বাসিত রাজপরিবারের এই নেতার বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে ইরানি রাজপথের রক্তক্ষয়ী ইতিহাসকে সামনে নিয়ে এল।
এনএন/ ৪ জুলাই ২০২৬









