ফুটবল

বিশ্বকাপে মিশরের ঐতিহাসিক জয়, ফিলিস্তিনিদের উৎসর্গ করলেন কোচ হোসাম হাসান

ডালাস, ৪ জুলাই – বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বে প্রথমবারের মতো জয়লাভ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে মিশর। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ জয়ের পর সাফল্যের আনন্দকে কেবল নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি দলটির প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তিনি ঐতিহাসিক এই জয়টি ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী মানুষের প্রতি উৎসর্গ করেছেন। কোচের এই বার্তার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকাতেও ফুটবল নিয়ে আনন্দের এক অভূতপূর্ব চিত্র দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ বত্রিশের এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ গোলে সমতা বিরাজ করছিল। পরবর্তীতে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

ম্যাচের ১৩ মিনিটে ইমাম আশুরের চমৎকার হেডে লিড নিয়েছিল মিশর। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে মোহাম্মদ হানির একটি আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। অতিরিক্ত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শ্যুটআউটে। সেখানে হোসাম আবদেলমাগুইদ জয়সূচক গোলটি করেন। অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সাউতার ও লুকাস হেরিংটন লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হলে মিশরের শেষ ষোলো নিশ্চিত হয়।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আবেগপ্রবণ হয়ে হোসাম হাসান বলেন, এই বিজয় আমি মিশরের জনগণের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের সেই লড়াকু মানুষদের উৎসর্গ করছি। আল্লাহ তাদের বিজয় দান করুন। উদযাপনের সময় কোচকে মিশর ও ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে দেখা যায়। দলের ফুটবলাররাও মাঠে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন।

এই জয়ের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। গাজার বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপের মাঝে অস্থায়ী বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করেছেন। অনেক শিশুর মুখে মিশরের জাতীয় পতাকা আঁকা ছিল।

যুদ্ধের ভয়াবহতা ভুলে মিশরের প্রতিটি গোল ও জয় নিশ্চিত হওয়ার মুহূর্তে গাজার মানুষ উল্লাসে ফেটে পড়েন।

এনএন/ ৪ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language