ফুটবল

বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার ফুটবল উন্মাদনা ও দেশীয় ফুটবলের আক্ষেপ

ঢাকা, ২ জুলাই – ভৌগোলিক দূরত্ব প্রায় ১৭ হাজার কিলোমিটার হলেও লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনার ফুটবলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের মানুষের উন্মাদনা বিশ্বজুড়ে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ চার দশক ধরে ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে আলবিসেলেস্তেদের প্রতি এই গভীর অনুরাগ আজ এক অনন্য ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

১৯৮৬ সালে কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাডোনার জাদুকরী নৈপুণ্য এ দেশের মানুষের হৃদয়ে আবেগের যে বীজ বুনেছিল, বর্তমান প্রজন্মের মাঝে লিওনেল মেসির হাত ধরে তা এক মহীরুহে রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশ ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ না পেলেও প্রতি আসরে আর্জেন্টিনা দলকে কেন্দ্র করে পুরো দেশ যেন নীল সাদা উৎসবে মেতে ওঠে।

বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে পাড়া মহল্লার মোড়ে মোড়ে বিশাল পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হয়। গভীর রাতের ম্যাচগুলোতেও দর্শকদের ভিড় ও ভুভুজেলা বাঁশির আওয়াজে মুখরিত থাকে চারপাশ।

প্রবীণ সমর্থকদের মতে, ম্যারাডোনার একক দক্ষতা এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর থেকেই এ দেশের মানুষ আর্জেন্টিনার সমর্থক হতে শুরু করে। ১৯৯০ সালের ফাইনালে ম্যারাডোনার অশ্রু সজল বিদায় সাধারণ বাংলাদেশিদের আবেগ আপ্লুত করেছিল।

এরপর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে মেসির নেতৃত্বে ট্রফি জয়ের মাধ্যমে ভক্তদের ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটে। এই ফুটবল উন্মাদনা কেবল মাঠের খেলাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাংলাদেশি সমর্থকদের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বিশ্ববাসীর নজর কাড়ার পর দীর্ঘ ৪৫ বছর পুনরায় ঢাকায় নিজেদের দূতাবাস চালু করেছে আর্জেন্টিনা।

এমনকি দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সাধারণ দর্শকদের সাথে বসে খেলা উপভোগ করতে দেখা গেছে। তবে এই বিশাল উন্মাদনার সমান্তরালে দেশের ফুটবল নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে রয়ে গেছে এক বড় আক্ষেপ। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে পেছনের সারিতে থাকা বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, মানুষের এই বিপুল উদ্দীপনাকে দেশের ফুটবলের উন্নয়নে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।

পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, আধুনিক একাডেমি ও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে প্রতিভা বিকাশের পথ রুদ্ধ হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ক্রিকেটের মতো ফুটবলেও সঠিক বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে একদিন হয়তো বিশ্বমঞ্চে লাল সবুজ পতাকার জন্যও এ দেশের মানুষ একইভাবে গর্জে উঠবে।

এস এম/ ২ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language