ইরানে হাজার হাজার মার্কিন সেনা নিহতের তথ্য ফাঁস করলেন ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ১৮ জুন – ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সামরিক সংঘাতের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ওয়াশিংটনের বজায় রাখা গোপনীয়তার প্রাচীর ভেঙে পড়ল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক অসতর্ক মন্তব্যে।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে ইরানের হামলায় হাজার হাজার মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। ওয়াশিংটন এতদিন ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য গোপন রাখলেও প্রেসিডেন্টের এই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তিতে আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাইন্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিউ ইয়র্ক টাইমসের হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি জোলান কান্নো ইয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে একটি স্পর্শকাতর প্রশ্ন করেন। তিনি জানতে চান যে দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শতাধিক শিশু নিহতের ঘটনায় কাউকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে কি না।
এই প্রশ্নে মেজাজ হারিয়ে ট্রাম্প পালটা অভিযোগ তুলে বলেন যে ওই হামলা কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে করেনি। তিনি আরও বলেন যে ইরান গাড়ি বোমা মেরে হাজার হাজার মার্কিন সেনাকে উড়িয়ে দিয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আকস্মিক মন্তব্য পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের দীর্ঘদিনের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিরোধী। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বরাবরই ইরানি হামলায় সীমিত হতাহতের দাবি করে আসছিল। তবে খোদ প্রেসিডেন্টের মুখে হাজার হাজার সেনা নিহতের এই স্বীকারোক্তি মার্কিন সামরিক গোপনীয়তাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
ট্রাম্প অবশ্য মিনাবের স্কুলে হামলার ঘটনাটিকে যুদ্ধকালীন অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেন এবং জানান যে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ওপর দায়িত্বভার অর্পণ করেন।
উল্লেখ্য যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুর দিকে দক্ষিণ ইরানের মিনাবের সাজারেহ তাইয়্যেবাহ এলিমেন্টারি স্কুলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ইরানি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী এই ঘটনায় ১৭৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হন যার মধ্যে ১২০ জনই ছিল শিশু।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও স্কাই নিউজের অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে পুরনো গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হামলা চালানোয় এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটে। প্রাথমিক অবস্থায় মার্কিন প্রশাসন হামলার দায় অস্বীকার করলেও অভ্যন্তরীণ তদন্তে তাদের বাহিনীর দায়বদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এস এম/ ১৮ জুন ২০২৬









