৮-৩ গোলে পরাজয় থেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঐতিহাসিক পথ জার্মানির

বার্লিন, ১৬ জুন – বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিধর দেশ জার্মানিকে সচরাচর এক অপ্রতিরোধ্য দল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মাঠে নামলে তারা প্রতিপক্ষের জন্য কোনো সহানুভূতি দেখায় না বললেই চলে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি ম্যাচে কুরাকাওকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে তারা সেই ঐতিহ্যেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।
এই ফলটি ফুটবল প্রেমীদের মনে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের সেই ঐতিহাসিক রাতের কথা মনে করিয়ে দেয়, যেখানে শক্তিশালী ব্রাজিলকে একই ব্যবধানে পর্যুদস্ত করেছিল জার্মানরা। তবে বর্তমানের এই দাপুটে ইমেজের আড়ালে জার্মানির ফুটবল ইতিহাসে একটি লজ্জাজনক অধ্যায়ও বিদ্যমান।
বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের গ্লানি তারা আজও বয়ে বেড়াচ্ছে। এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে। সেই বছরের ২০ জুন সুইজারল্যান্ডের বাসেলে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানি মুখোমুখি হয়েছিল হাঙ্গেরির। সে সময়কার হাঙ্গেরিকে বিশ্বের সবচাইতে শক্তিশালী দল হিসেবে গণ্য করা হতো।
সান্দোর কোচিস এবং জোলতান চিবোরের মতো বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত হাঙ্গেরি সেই ম্যাচে জার্মান রক্ষণভাগকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। ম্যাচ শেষে দেখা যায় হাঙ্গেরি ৮-৩ গোলের এক অবিশ্বাস্য জয় পেয়েছে, যা আজও বিশ্বকাপের ইতিহাসে জার্মানির সবচেয়ে বড় হার হিসেবে নথিবদ্ধ রয়েছে।
তবে এই গল্পের সমাপ্তি সেখানে হয়নি। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বিশ্বকাপের ফাইনালে এই দুই দল আবারও একে অপরের মোকাবিলা করে। তখন টানা ৩০ ম্যাচে অপরাজিত থাকা হাঙ্গেরিকেই শিরোপার প্রধান দাবিদার মনে করা হচ্ছিল। ফাইনালের শুরুতেই হাঙ্গেরি ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে তাদের আধিপত্য বজায় রাখে।
কিন্তু এরপরই ফুটবল বিশ্ব এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হয়। অদম্য লড়াকু মানসিকতা নিয়ে খেলায় ফিরে আসে পশ্চিম জার্মানি এবং শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে ম্যাচটি জিতে নেয়। এই জয়ের মাধ্যমেই তারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের ঘরে তোলে।
ফুটবল প্রেমীদের কাছে এই অভাবনীয় জয় বার্নের অলৌকিক ঘটনা নামে বিশেষভাবে পরিচিত। একই আসরে ৮-৩ গোলের শোচনীয় হার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এই রোমাঞ্চকর ঘটনা ফুটবল ইতিহাসের পাতায় আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।
এস এম/ ১৬ জুন ২০২৬









