যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল বিশ্বকাপের চেয়ে বাস্কেটবল নিয়ে মাতামাতি বেশি

ওয়াশিংটন, ১২ জুন – মহাআড়ম্বরে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর বিশ্বকাপ। তবে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের মনে কি আদৌ সেই উন্মাদনা লেগেছে? নিউইয়র্কের ম্যানহাটন থেকে শুরু করে সান্টা মনিকা সমুদ্র সৈকত সবখানেই এখন ভিন্ন এক আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তবে সেই উন্মাদনা ফুটবল নিয়ে নয় বরং বাস্কেটবল নিয়ে। গত বুধবার রাতে এনবিএ ফাইনালসের ইতিহাসে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে সান আন্তোনিও স্পার্সকে হারিয়েছে নিউইয়র্ক নিক্স। আর তাতেই উল্লাসে মেতেছে পুরো নিউইয়র্ক সিটি। এই দৃশ্যটিই মনে করিয়ে দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল খেলাটিকে এখনো বাস্কেটবল বা আমেরিকান ফুটবলের মতো জনপ্রিয় খেলাগুলোর সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতার মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেক আমেরিকানই এই টুর্নামেন্ট নিয়ে খুব একটা আগ্রহী নন। নানা রাজনৈতিক বিতর্ক আর টিকিটের আকাশচুম্বী মূল্যের পর এবার মাঠের লড়াইয়ে নামছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। যেখানে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে।
১৯৯৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ আয়োজনের মাধ্যমে দেশটিতে ফুটবল সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তন এসেছিল এবং মেজর লিগ সকারের ভিত্তি গড়ে উঠেছিল। তবে তিন দশক পেরিয়ে এবারের আসরটি যেন সাধারণ মানুষের মনে সেই চেনা রোমাঞ্চ পুরোপুরি জাগিয়ে তুলতে পারছে না।
একটু খুঁটিয়ে দেখলে নিউইয়র্কে বিশ্বকাপের আবহ চোখে পড়ে বৈকি। সাবওয়ে ট্রেনগুলো সেজেছে জাতীয় দলের রঙে আর টাইমস স্কয়ারের বিশাল বিলবোর্ডে শোভা পাচ্ছে লিওনেল মেসির মুখ। তবে নিউইয়র্কবাসী এখন বুঁদ হয়ে আছেন কেবল বাস্কেটবলে। আগামীকাল শনিবার যদি নিউইয়র্ক নিক্স তাদের ম্যাচে জয় পায় তবে ১৯৭৩ সালের পর প্রথমবারের মতো তারা শিরোপা ঘরে তুলবে।
অন্য আয়োজক শহর লস অ্যাঞ্জেলেসের চিত্রটাও প্রায় একই রকম। বিলবোর্ডে লিওনেল মেসির বিশাল দেয়ালচিত্র থাকলেও যারা নিয়মিত ফুটবলের খোঁজখবর রাখেন না তাদের পক্ষে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার বিষয়টি টের পাওয়া বেশ কঠিন। লস অ্যাঞ্জেলেস বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির সহ সভাপতি ল্যারি ফ্রিডম্যান অবশ্য আশাবাদী যে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই শহরের মানুষ ঠিকই ফুটবল জ্বরে কাঁপবে।
তরুণ প্রজন্মের আমেরিকানদের মধ্যে কিছুটা নতুন উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে যারা ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের স্বাদ পাননি। তবে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে টিকেটের আকাশচুম্বী দাম। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচের সবচেয়ে সস্তা টিকেটের দামও ঠেকেছে ১ হাজার ১২০ ডলারে। শেষ পর্যন্ত মাঠের পারফরম্যান্সে যুক্তরাষ্ট্র দল কত দূর যেতে পারে তার ওপরেই নির্ভর করছে দেশটির ফুটবলের ভবিষ্যৎ।
এস এম/ ১২ জুন ২০২৬









