বেলফাস্টে ভয়াবহ দাঙ্গা: প্রাণভয়ে ঘরবন্দি হাজারো বাংলাদেশি

বেলফাস্ট, ১১ জুন – উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টে এক ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া অভিবাসীবিরোধী ব্যাপক সহিংসতায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ওই শহরে বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি নাগরিক গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
গত ৮ জুন সোমবার বেলফাস্টের স্থানীয় বাসিন্দা স্টিফেন ওগিলভিকে সুদান থেকে আসা এক অভিবাসীর ছুরিকাঘাত করার ঘটনা থেকে এই অস্থিরতার সূত্রপাত হয়। এই হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা জাতিগত বিদ্বেষে রূপ নেয় এবং বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে আসে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে দাঙ্গা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। প্রথমে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন রাস্তাঘাট, দোকান ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ শুরু করলেও রাতের দিকে তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু হয় অভিবাসীদের বসতবাড়ি। প্রথম রাতে অন্তত ১৩টি বাড়ির বাসিন্দাদের জোরপূর্বক বের করে দিয়ে সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
এই দাঙ্গার কবলে পড়ে একটি বাংলাদেশি পরিবারও হামলার শিকার হয়েছে। প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন মুখোশধারী ব্যক্তি ওই বাংলাদেশি পরিবারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক আব্দুল আলিম জানান, রাত নয়টার দিকে তাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করা হয়।
পুলিশকে খবর দেওয়ার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং নিরাপত্তার খাতিরে পরিবারটিকে মাত্র এক মিনিটের মধ্যে ঘর ছেড়ে বের হওয়ার নির্দেশ দেয়। বর্তমানে আব্দুল আলিমের পরিবারের সদস্যসহ মোট তিনটি পরিবারের আটজন লোক একটি ছোট দুই বেডরুমের ফ্ল্যাটে আশ্রয় নিয়েছেন।
পরিস্থিতি বর্ণনা করে তিনি বলেন যে, পুরো শহরজুড়ে এক বিভীষিকাময় অবস্থা বিরাজ করছে এবং তারা চারদিক থেকে অবরুদ্ধ বোধ করছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্টিফেন ওগিলভিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত সুদানি নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই হামলায় ওগিলভি একটি চোখ হারিয়েছেন এবং তার অবস্থা গুরুতর।
এই সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন দাঙ্গা পুলিশ ও জলকামান মোতায়েন করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেবল ছুরিকাঘাতের ঘটনাই নয়, বরং সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সংকট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক তথ্যের বিস্তার এই দাঙ্গাকে উসকে দিয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এই পরিস্থিতিতে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কোনো একক ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো অভিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর চাপানো সমীচীন নয়।
এস এম/ ১১ জুন ২০২৬








