সচেতনতা

অন্ধকারে স্মার্টফোন ব্যবহার: দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

ঘুমানোর আগে বিছানায় শুয়ে স্মার্টফোন ব্যবহার করা বর্তমানে অনেকেরই নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে অন্ধকার ঘরে অল্প সময়ের জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার করলে তা দৃষ্টিশক্তির ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুসারে সম্পূর্ণ অন্ধকারে মাত্র ১৫ মিনিট উজ্জ্বল ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে সাময়িক দৃষ্টিশক্তির সমস্যা হতে পারে যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ক্ষণস্থায়ী স্মার্টফোন অন্ধত্ব বা ট্রানজিয়েন্ট স্মার্টফোন ব্লাইন্ডনেস নামে পরিচিত। এটি সাধারণত স্থায়ী ক্ষতির কারণ না হলেও অনেকের জন্য এটি চরম উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে।

হিমালয়ান জার্নাল অফ অফথালমোলজিতে ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে এই সমস্যাটি সাধারণত তখন ঘটে যখন আমাদের একটি চোখ উজ্জ্বল স্ক্রিনের সংস্পর্শে আসে এবং অন্য চোখটি অন্ধকারের সাথে অভ্যস্ত থাকে। বিছানায় একপাশে কাত হয়ে শুয়ে একটি চোখ বালিশ দিয়ে আংশিক ঢেকে রেখে ফোন ব্যবহার করলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা চোখটি আলোর সাথে এবং অন্যটি অন্ধকারের সাথে অভ্যস্ত হয়ে যায়। পরবর্তীতে ফোন রেখে দিলে দুটি চোখ ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া করার ফলে একটি চোখে সাময়িক দৃষ্টিশক্তি হ্রাস বা ঝাপসা দেখা দেয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন এই অবস্থাটি ভীতিকর মনে হলেও সাধারণত ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

চক্ষু বিশেষজ্ঞরা সম্পূর্ণ অন্ধকারে ফোন ব্যবহার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্ধকারে উজ্জ্বল পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয় এবং চোখ ক্লান্ত ও শুষ্ক হয়ে পড়ে। এ ছাড়া স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার সময় চোখের পলক কম পড়ায় অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে স্মার্টফোন থেকে নির্গত নীল আলো শরীরের স্বাভাবিক ঘুমচক্রকেও বাধাগ্রস্ত করে। গভীর রাতে এই আলোর সংস্পর্শ মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয় যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

সুস্থতার জন্য বিশেষজ্ঞরা আলোকিত ঘরে ফোন ব্যবহার করার এবং ঘুমানোর অন্তত কিছুক্ষণ আগে ডিভাইস থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

এনএন/ ৯ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language