চট্টগ্রাম

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ফেরত যাচ্ছে স্ক্র্যাপ জাহাজ মেমেই

চট্টগ্রাম, ৬ জুন – চট্টগ্রামের শিপব্রেকিং শিল্পের জন্য আমদানি করা ‘মেমেই’ নামের একটি জাহাজ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ায় সেটি ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জাহাজটি বিদায় নেবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ইরানের ওপর চাপ তৈরির অংশ হিসেবে মার্কিন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় জাহাজটির নাম উঠে আসায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, গত ২২ মে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। এর ছয় দিন পর ২৮ মে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

ফলে জাহাজটি বর্তমানে আনোয়ারা উপকূলের কাছে অবস্থান করলেও সেটিকে আমদানিকারকের ইয়ার্ডে ভেড়ানোর অনুমতি দেয়নি বন্দর কর্তৃপক্ষ। এসএন করপোরেশন নামক একটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৬১ কোটি টাকা মূল্যের এই স্ক্র্যাপ জাহাজটি সোলার শিপিং লাইনসের মাধ্যমে আমদানি করেছিল।

এভার শাইনিং লিমিটেডের মালিকানাধীন এই জাহাজটি ১৯৯৭ সালে নির্মিত এবং পালাউয়ের পতাকাবাহী। এটি মূলত তেল ও রাসায়নিক পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হতো এবং এর ধারণক্ষমতা ৪৪ হাজার ৮০০ টন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন নির্বাহী আদেশের আওতায় একই কোম্পানির ‘ফ্লোরা’ নামের আরেকটি জাহাজকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতা এড়াতে চট্টগ্রাম বন্দরসহ সরকারি সংস্থাগুলো জাহাজটিকে সৈকতে ভেড়ানোর ছাড়পত্র দেয়নি। এসএন করপোরেশনের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক ওমর ফারুক জানান, আইনি জটিলতার কারণে জাহাজটি সৈকতে ভেড়ানো সম্ভব হচ্ছে না বিধায় সেটি ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

সোলার শিপিং লাইনসের কর্মকর্তা তৌফিক জানান, জাহাজটি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং এটি সম্পন্ন করতে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিষেধাজ্ঞার আগে জাহাজটি বাংলাদেশে পৌঁছালেও পরবর্তীতে কোম্পানিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আসায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এস এম/ ৬ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language