মধ্যপ্রাচ্য

কোনো আগ্রাসন চাপিয়ে দেওয়া হলে চূড়ান্ত জবাব দেবে ইরান: আব্বাস আরাগচি

তেহরান, ৫ জুন – ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শত্রুদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন যে তেহরান যুদ্ধের পক্ষপাতী নয়। তবে দেশের ওপর কোনো আগ্রাসন চাপিয়ে দেওয়া হলে আত্মরক্ষার্থে চূড়ান্ত এবং সিদ্ধান্তমূলক জবাব দেওয়া হবে।

লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে যে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় যদি তাদের মাটিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহৃত হয়, তবে ইরানও সরাসরি ওইসব ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করবে।

আরাগচি সমালোচনা করে বলেন যে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের সামরিক উপস্থিতি এই অঞ্চলে নিরাপত্তার বদলে কেবল অস্থিতিশীলতাই বয়ে এনেছে। সাক্ষাৎকারে আরাগচি ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব ও জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার ঘটনার স্মৃতিচারণ করে জানান, সেই উত্তেজনাকর সময়ে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতাকে নিরাপদ বাংকারে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

নেতা বলেছিলেন যে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো বিশেষ সুরক্ষায় যাবেন না। নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে আরাগচি বলেন, সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনির অধীনে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও সামরিক কাঠামো বর্তমানে সম্পূর্ণ সুসংগঠিত।

সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় থেকে নিয়মিত দিকনির্দেশনা আসছে এবং জাতীয় সংহতিই এখন ইরানের প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে। আঞ্চলিক পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি জানান যে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ অক্ষের প্রতি ইরানের নীতিগত সমর্থন সবসময় অটুট থাকবে।

চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে হলে যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননসহ সব রণাঙ্গনকে গুরুত্ব দিতে হবে। আরাগচি জোর দিয়ে বলেন যে লেবানন একটি ভ্রাতৃপ্রতীম রাষ্ট্র এবং ইরান কখনো দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেনি। তিনি আরও বলেন, শীর্ষ নেতাদের হত্যা করে প্রতিরোধ আন্দোলনকে দমানো সম্ভব নয়।

মার্কিন ও ইসরায়েলি পক্ষ ইরানের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধক্ষমতা দেখে বিস্মিত হয়েছে। ইরান তার কৌশলগত অবস্থানে আত্মবিশ্বাসী এবং যুদ্ধাপরাধের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনি লড়াই অব্যাহত রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এস এম/ ৫ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language