ঢাকায় এআই ক্যামেরায় ফিরছে সড়কের শৃঙ্খলা

ঢাকা, ১৬ মে – রাত প্রায় একটা। বনানীতে ট্রাফিক সিগন্যালে লাল বাতি জ্বলছে। চারপাশ ফাঁকা এবং দৃশ্যত কোনো ট্রাফিক পুলিশ নেই। আগে এই সময়ে নিয়ম অমান্য করে গাড়ি চলে যাওয়ার প্রবণতা থাকলেও এখন দৃশ্যপট বদলে গেছে। সিগন্যালে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়িয়ে সবুজ বাতির অপেক্ষা করছে।
মোড়ের কোণে থাকা একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরাই সবাইকে নিয়মে বেঁধে রেখেছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এআই প্রযুক্তিভিত্তিক এই নজরদারি ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে। আগে মোটরসাইকেলচালকদের ফুটপাতে ওঠার যে প্রবণতা ছিল, তা এখন অনেক কমেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এআই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত করছে এবং মামলা রেকর্ড করছে। গত এক সপ্তাহে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তিন শতাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সিগন্যাল অমান্য করা, উল্টো পথে চলাচল এবং হেলমেট বা সিটবেল্ট ছাড়া গাড়ি চালানোর মতো অপরাধ শনাক্ত করতে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। ডিএমপি জানিয়েছে, যানবাহনের সঠিক স্থানে নম্বর প্লেট এবং আরএফআইডি ট্যাগ থাকা বাধ্যতামূলক।
তবে প্রযুক্তির এই সুফলের পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। মিরপুর এলাকার বাসিন্দা ফারজানা জানান, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকরা নিয়ম মানলেও অটোরিকশাগুলো এখনো যেখানে সেখানে থামছে। নিয়ম না মেনে হুটহাট ইউটার্ন নেওয়া এবং মাঝরাস্তায় যাত্রী ওঠানামা করার মতো বিশৃঙ্খলা অটোরিকশাগুলোর ক্ষেত্রে এখনো বিদ্যমান।
তিনি মনে করেন, এই প্রযুক্তির আওতা সব ধরনের যানবাহনের জন্য কঠোরভাবে কার্যকর করা উচিত। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে সড়কে শৃঙ্খলা আরও বাড়বে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে। তবে এই উদ্যোগের পূর্ণ সফলতার জন্য অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং বিআরটিএর তথ্যভাণ্ডার নিয়মিত হালনাগাদ করা জরুরি বলে তারা মত প্রকাশ করেছেন।
এস এম/ ১৬ মে ২০২৬









