রক্তাক্ত এপ্রিল: এক মাসেই ঝরল ৫১০ প্রাণ! সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামাতে বড় সংস্কারের দাবি

ঢাকা, ১৩ মে – সড়ক যেন এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে! গত এপ্রিল মাসে দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে ঝরে গেছে ৫১০টি তাজা প্রাণ। বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। কেবল সড়ক নয়, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে এপ্রিলে মোট ৫৬৩ জন নিহত হয়েছেন। দেশের পরিবহন খাতের এই বিশৃঙ্খলা রুখতে এবার ‘আপাদমস্তক’ সংস্কারের দাবি তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এপ্রিলে দুর্ঘটনার রোমহর্ষক পরিসংখ্যান: যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে সারা দেশে ৫২৭টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহতের সংখ্যা ৫১০ এবং আহতের সংখ্যা ১ হাজার ২৬৮ জন।
চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বোচ্চ ১৩৫টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ১৩৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৪২ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট প্রাণহানির প্রায় ২৮ শতাংশ।
নিহতদের মধ্যে ৯৯ জন চালক, ৮২ জন পথচারী, ৫৬ জন শিক্ষার্থী, ৫২ জন নারী এবং ৪৭ জন শিশু রয়েছে। বাদ যাননি চিকিৎসক, সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও।
প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে বেশ কিছু ‘ঘাতক’ কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে:
- মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল।
- রোড সাইন ও ডিভাইডারের অভাব এবং মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি।ফিটনেসবিহীন যানবাহনের দাপট ও অদক্ষ চালকের বেপরোয়া গতি।
- সড়কে লাগামহীন চাঁদাবাজি এবং চালকদের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা।
বিশেষজ্ঞের হাতে চাই নিয়ন্ত্রণযাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “পরিবহন খাতকে আমলাতন্ত্রের পরিবর্তে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ন্ত্রণে দিতে হবে।” তিনি দাবি করেন, পুরনো মান্ধাতা আমলের পরিচালনা পদ্ধতি দিয়ে সড়কের শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে একটি স্থায়ী ‘সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইউনিট’ চালুর ওপরও জোর দেন তিনি।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে সরকারকে বেশ কিছু কঠোর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পদক্ষেপগুলো হলো:
- রেজিস্ট্রেশন বন্ধ: মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার আমদানি ও নিবন্ধন বন্ধ করা।
- স্মার্ট ভাড়া: সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং স্মার্ট পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় নিশ্চিত করা।
- ডিজিটাল ফিটনেস: ডিজিটাল পদ্ধতিতে গাড়ির ফিটনেস প্রদান এবং দক্ষ চালক তৈরির প্রকল্প নেওয়া।
- মালিক সমিতির দাপট কমানো: পরিবহন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে গুটিকয়েক মালিক সমিতির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা।
- বেতন ও কর্মঘণ্টা: চালকদের নির্দিষ্ট বেতন ও ডিউটি আওয়ার সুনিশ্চিত করা এবং চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হওয়া।
একটি স্বাধীন দেশে প্রতিদিন সড়কে মানুষের এই ‘গণমৃত্যু’ মেনে নেওয়া যায় না। যাত্রী কল্যাণ সমিতির এই সুপারিশগুলো কি আমল দেবে সরকার? সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—সড়ক হোক নিরাপদ, আর কোনো মায়ের কোল যেন খালি না হয়।
এনএন/ ১৩ মে ২০২৬









