কর্মকর্তাদের জন্য চরম কড়াকড়ি বাংলাদেশ ব্যাংকের; এবার কি ফিরবে আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা?

ঢাকা, ১৩ মে – দেশের আর্থিক খাতের অভিভাবক হিসেবে নিজের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা প্রমাণে এবার কঠোর অ্যাকশনে নামল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের টাকায় কোনো ধরনের ট্রেনিং, সেমিনার বা বিদেশ ভ্রমণে যেতে পারবেন না কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী। বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-২ থেকে জারি করা এক গোপনীয় অথচ কড়া অফিস নির্দেশনায় এই ‘নিষেধাজ্ঞা’র কথা জানানো হয়েছে।
আগে সরকারি বা বেসরকারি ব্যাংকের অর্থায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন রিসোর্ট বা বিলাসবহুল হোটেলে প্রশিক্ষণের নামে যাতায়াত ছিল ওপেন সিক্রেট। নতুন নির্দেশনায় এটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কোনো ব্যাংকের খরচে আয়োজিত প্রোগ্রামে বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ ট্রেইনি বা ট্রেইনার হিসেবে অংশ নিতে পারবেন না।
আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংকের সুবিধা নিলে নিরপেক্ষতা নষ্ট হয়—এই ভাবনা থেকেই এই কঠোর অবস্থান।
সাধারণত অনেক ব্যাংক বা সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান (Vendors) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জন্য চুক্তিবহির্ভূত বৈদেশিক সফরের ব্যবস্থা করে থাকে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণ বা ওয়ার্কশপে অংশ নেওয়া যাবে না। এটি মূলত দুর্নীতির পথ বন্ধ করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ প্রয়োজনে যদি কোনো কর্মকর্তা হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্টের অনুমতি নিয়ে কোনো সেমিনারে ‘বক্তা’ হিসেবে উপস্থিত হন, তবে তিনি আয়োজক সংস্থার কাছ থেকে কোনো ধরনের টাকা, সম্মানী বা ফি গ্রহণ করতে পারবেন না। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের এখন থেকে পুরোপুরি ‘স্বার্থের সংঘাত’ মুক্ত থাকতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ও নানা অনিয়ম নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ছিল। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অতি-ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল বারবার। এই নির্দেশনার ফলে কর্মকর্তাদের ওপর ব্যাংকগুলোর প্রভাব কমবে এবং তারা স্বাধীনভাবে তদারকি করতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, “যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
এনএন/ ১৩ মে ২০২৬









