ইরানের প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে ভয়াবহ তেল দূষণ

তেহরান, ৯ মে – ইরানের প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের সন্নিকটে সমুদ্রের বিশাল এলাকা জুড়ে ভয়াবহ তেল দূষণের চিত্র ধরা পড়েছে স্যাটেলাইট ছবিতে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে গৃহীত আলোকচিত্রে দ্বীপটির পশ্চিম দিকের বিস্তীর্ণ জলরাশির ওপর ধূসর ও সাদা রঙের তেলের আস্তরণ দেখা যায়। ইউরোপীয় মহাকাশ কর্মসূচির কপারনিকাস সেনটিনেল স্যাটেলাইট থেকে গত ৬ থেকে ৮ মে সংগৃহীত ছবিতে এই চিত্র ফুটে উঠেছে।
সংঘাত ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ সংস্থার গবেষক লিওন মোরল্যান্ড জানান যে ছবিতে দৃশ্যমান স্তরটি মূলত তেলের স্তরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৪৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই দূষণ ছড়িয়ে পড়েছে। জ্বালানি পণ্য বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডাটা ডেস্কের সহ-প্রতিষ্ঠাতা লুই গডার্ড এই ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় তেল দূষণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তার মতে প্রায় ৭০ দিন আগে ইরান কেন্দ্রিক আঞ্চলিক উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে বড় পরিবেশ বিপর্যয়ের ঘটনা হতে পারে। তবে এই দূষণের সঠিক কারণ ও উৎস সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খার্গ দ্বীপ ইরানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেশটির মোট তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই কেন্দ্র থেকেই সম্পন্ন হয়। এই তেলের একটি বড় অংশ চীনে রফতানি করা হয়ে থাকে।
সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে চলমান উত্তজনা ও সামরিক তৎপরতার কারণে জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজারে সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে এই ঘটনার বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী কিংবা জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশন এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলে শত শত জাহাজ আটকা পড়ে থাকায় অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা চাপের মুখে রয়েছে।
এস এম/ ৯ মে ২০২৬









