উত্তর আমেরিকা

নাসার ১০ বিজ্ঞানীর রহস্যজনক মৃত্যু ও নিখোঁজ: যুক্তরাষ্ট্রে তোলপাড়

ওয়াশিংটন, ৪ মে – নাসার অত্যন্ত গোপনীয় ও স্পর্শকাতর প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত অন্তত ১০ জন বিজ্ঞানীর রহস্যজনক মৃত্যু এবং নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মহাকাশ গবেষণা, পারমাণবিক শক্তি এবং ইউএফও সংক্রান্ত গবেষণায় নিয়োজিত এই বিজ্ঞানীদের অন্তর্ধান নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর রহস্য।

অনেকে একে জনপ্রিয় সাই-ফাই সিরিজ দ্য এক্স-ফাইলস এর বাস্তব রূপ বলে অভিহিত করছেন। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই বিজ্ঞানীদের মধ্যে চারজন সরাসরি নাসার হয়ে কাজ করতেন এবং তাদের মধ্যে তিনজন একই গবেষক দলের সদস্য ছিলেন। এছাড়া দুজন বিজ্ঞানী নিউ মেক্সিকোর একই ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে কর্মরত ছিলেন। এমনকি একজন সাবেক বিমানবাহিনী প্রকৌশলী, যিনি অবসরের পর ইউএফও গবেষণায় যুক্ত ছিলেন, তিনিও গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

বিজ্ঞানীদের এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ধারা শুরু হয় ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে। নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরির প্রবীণ বিজ্ঞানী মাইকেল ডেভিড হিকস ৫৯ বছর বয়সে মারা যান। তিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে ধুমকেতু ও গ্রহাণু নিয়ে গবেষণা করছিলেন। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। হিকসের মৃত্যুর এক বছর পর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তার সহকর্মী ফ্র্যাঙ্ক মাইওয়াল্ড লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজ বাড়িতে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হন।

রহস্যের মাত্রা আরও বেড়ে যায় ২০২৫ সালের জুনে, যখন নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরির পরিচালক মনিকা রেজা ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বনে হাইকিং করতে গিয়ে নিখোঁজ হন। উদ্ধারকারী দল কয়েক দিন তল্লাশি চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পায়নি। অন্যদিকে বিমানবাহিনী ল্যাবরেটরির সাবেক কমান্ডার উইলিয়াম নিল ম্যাককাসল্যান্ড গত ফেব্রুয়ারিতে অদ্ভুতভাবে নিখোঁজ হন।

বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তিনি মোবাইল ও চশমা ফেলে গেলেও সাথে নিয়েছিলেন হাইকিং বুট ও একটি পিস্তল। নিখোঁজ ও মৃত্যুর এই তালিকায় নিউ মেক্সিকোর লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী কাসিয়াস এবং সাবেক ফোরম্যান শাভেজও রয়েছেন। এছাড়া ম্যাসাচুসেটসে এমআইটি অধ্যাপক নুনো লরেইরো এবং ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির জ্যোতির্পদার্থবিদ কার্ল গ্রিলমায়ার গুলিতে নিহত হয়েছেন।

এফবিআই একে গণশুটিং বলে দাবি করলেও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, তাদের বিশেষ গবেষণার কারণে তারা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। ষড়যন্ত্রতত্ত্ব আরও জোরালো হয়েছে তরুণ বিজ্ঞানী অ্যামি এসক্রিজ এবং সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ম্যাথিউ জেমস সুলিভানের মৃত্যুতে। সুলিভান ইউএফও সংক্রান্ত একটি মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার দুই সপ্তাহ আগে কথিত আত্মহত্যা করেন।

এই পরিস্থিতিতে এফবিআই পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল জানিয়েছেন যে তারা প্রতিটি মামলার গভীর তদন্ত করছেন। বিশেষ করে কোনো বিদেশি শক্তির হাত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিপাবলিকান নেতা জেমস কোমার মনে করেন, এই ঘটনাগুলো নিছক কাকতালীয় হতে পারে না। হাউজ ওভারসাইট কমিটি ইতোমধ্যে প্রতিরক্ষা বিভাগ ও নাসাকে চিঠি পাঠিয়ে একটি শক্তিশালী তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

এস এম/ ৪ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language