দেশে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গে আরও ১০ জনের মৃত্যু, বাড়ছে উদ্বেগ

ঢাকা, ০৩ মে – দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত থাকায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে, আর বাকি নয়জনের শরীরে হামের উপসর্গ ছিল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের লক্ষণ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ২৪৪ জনের, যা পরিস্থিতির গভীরতা নির্দেশ করে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংক্রমণের হারও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১ হাজার ১৬৬ জন হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে গেছেন। এ সময় নমুনা পরীক্ষায় ৯৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
গত প্রায় দেড় মাসে (১৫ মার্চ থেকে) মোট ৪০ হাজার ৪৯১ জন হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে গেছেন। এর মধ্যে ৫ হাজার ৩১৩ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ সংখ্যা থেকে বোঝা যায়, সংক্রমণ কমিউনিটি পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
হাসপাতালভিত্তিক চিত্রও একইভাবে উদ্বেগজনক। এ সময়ের মধ্যে ২৭ হাজার ৮১৬ জন রোগী হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৪ হাজার ৯০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, যা চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতার একটি ইতিবাচক দিক তুলে ধরলেও নতুন সংক্রমণের হার পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজধানীকেন্দ্রিক ঢাকা বিভাগেই সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। গত এক দিনে ঢাকা বিভাগে ৫২৩ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ১৯৯ জন হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৬৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
মৃত্যুর দিক থেকেও ঢাকা বিভাগ এগিয়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে মারা যাওয়া নয়জনের মধ্যে চারজনই ঢাকা বিভাগের। এছাড়া বরিশাল বিভাগে দুজন এবং খুলনা ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছেন। এ ছাড়া যিনি নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, তিনিও ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা।
১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ১১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে রাজশাহী বিভাগে, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ৭০ জন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগের বিস্তার ঠেকাতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই সংক্রমণ বেশি হওয়ায় অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এনএন/ ০৩ মে ২০২৬









