ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে ক্যালিফোর্নিয়ায় তেলের দামে চরম অস্থিরতা

স্যাক্রামেন্টো,২ মে – লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি তেল পাম্পে নিজের ট্রাকে জ্বালানি ভরছিলেন ২৮ বছর বয়সী রাইডার থমাস। তেলের ট্যাংক পূর্ণ করতে গিয়ে তাকে এখন গুনতে হয়েছে ১৩০ ডলার। যা ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হওয়ার আগের সময়ের তুলনায় অন্তত ৩০ ডলার বেশি।
এ নিয়ে নিজের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে থমাস বলেন যে তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে তিনি অত্যন্ত বিরক্ত এবং এর জন্য সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকেই দায়ী করছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। পাল্টা জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালায় ইরানি বাহিনী।
এর ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যায়। টানা ৩৯ দিন যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও শান্তি আলোচনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি বৈঠকে কোনো সমাধান না আসায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একক সিদ্ধান্তে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ান।
তবে ইরান পুনরায় আলোচনায় বসতে অনাগ্রহ দেখানোয় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। বর্তমানে সেখানে প্রতি গ্যালন তেলের দাম ৬ ডলার ছাড়িয়েছে।
জ্বালানির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও পোশাকের দাম বৃদ্ধির শঙ্কায় রয়েছেন নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা। ৭৩ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত নারী ফ্লো জানান যে অতিরিক্ত দামের কারণে তাকে এখন গাড়ি চালানো প্রায় কমিয়ে দিতে হয়েছে।
পেনশনের সামান্য টাকায় ঘরভাড়া দেওয়ার পর হাতখরচ চালানো তার জন্য এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক বর্তমানে এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন না বলে বিভিন্ন জনমত জরিপে উঠে এসেছে।
এস এম/ ২ মে ২০২৬









