জি-৭ সম্মেলনে এআই নিয়ে উত্তেজনা ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

ওয়াশিংটন, ১৭ জুন – ফ্রান্সের ইভিয়ান লে বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি ৭ সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এই সম্মেলনের মাঝেই উন্নত এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি অ্যানথ্রোপিক কোম্পানির সবচেয়ে উন্নত এআই মডেলগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকদের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। এই সম্মেলনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অংশ নিয়েছেন।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন ওপেনএআই প্রধান স্যাম অল্টম্যান, অ্যানথ্রোপিকের দারিও আমোদেই, গুগল ডিপমাইন্ডের ডেমিস হাসাবিস এবং মিস্ট্রাল এআই এর আর্থার মেঁশ। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁন ব্যক্তিগতভাবে স্যাম অল্টম্যানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য যে, এই ধরনের কোনো বড় বৈঠকে অল্টম্যানের এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। সম্মেলন শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র অ্যানথ্রোপিক কোম্পানির ফেবল ৫ এবং মাইথোস ৫ মডেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লাটনিক জানিয়েছেন যে, এই উন্নত প্রযুক্তিগুলো চীন বা রাশিয়ার মতো প্রতিপক্ষ দেশগুলোর সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার হাতে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই মূলত এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশি ব্যবহারকারীদের পরিচয় যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে অ্যানথ্রোপিক কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে তাদের পুরো সিস্টেমই বন্ধ করে দেয়।
তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জি ৭ ভুক্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোকেও এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত রাখা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে সম্মেলনে উপস্থিত নেতাদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
কারণ ওয়াশিংটন একদিকে এআই পরিচালনায় বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছে, অন্যদিকে তারাই উন্নত প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার সীমিত করার পথে হাঁটছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অনমনীয় অবস্থান ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সহযোগিতার পথকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এস এম/ ১৭ জুন ২০২৬









