হরমুজ প্রণালি বন্ধ: বিকল্প স্থলপথে পণ্য পরিবহনে ঝুঁকছে বিশ্ব বাণিজ্য

তেহরান, ১ মে – বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের ২০ শতাংশের বেশি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় তেহরান এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এই অচলাবস্থার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি গত ১৩ এপ্রিল থেকে পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌ-অবরোধের ফলে ইরানের প্রধান বন্দরগুলো দিয়ে পণ্য পরিবহন ও তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের রুটগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে যে পণ্যবাহী জাহাজগুলো এখন বিকল্প হিসেবে স্থলপথ ব্যবহার শুরু করেছে। সামুদ্রিক পথে ঝুঁকি এড়াতে জাহাজ মালিকরা খাদ্য ও শিল্পজাত পণ্য সরবরাহের জন্য মরুভূমির মহাসড়কগুলোকে বেছে নিচ্ছেন। সমুদ্রপথে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর বন্দরে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে ওঠায় বর্তমানে ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে সৌদি আরবের লোহিত সাগর তীরের জেদ্দা বন্দরটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। এমএসসি এবং মেয়ারস্কের মতো বড় বড় শিপিং কোম্পানিগুলো সুয়েজ খাল হয়ে জেদ্দা বন্দরে ভিড়ছে। সেখান থেকে পণ্যবাহী ট্রাকগুলো মরুভূমি পাড়ি দিয়ে শারজাহ, বাহরাইন এবং কুয়েতে পৌঁছাচ্ছে।
ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার প্রতিষ্ঠান ওভারসির সহ-প্রতিষ্ঠাতা আর্থার বারিলাস ডি দ্য জানিয়েছেন যে অতিরিক্ত পণ্যের চাপের কারণে জেদ্দা বন্দরে বর্তমানে তীব্র জট সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও জাহাজ মালিকরা ওমানের সোহার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোর ফাক্কান ও ফুজিরাহ বন্দর ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন। অন্যদিকে জর্ডানের আকাবা বন্দরকে ইরাকের বাগদাদ ও বসরায় পণ্য পাঠানোর কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি তুরস্কের একটি করিডোর দিয়েও বর্তমানে উত্তর ইরাকে পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
এস এম/ ১ মে ২০২৬









