ইউরোপ

হাঙ্গেরির নির্বাচনে অরবানের ১৬ বছরের শাসনের অবসান, পিটার মাজিয়ারের জয়

বুদাপেস্ট, ১৩ এপ্রিল – হাঙ্গেরির রাজনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। এবারের পার্লামেন্ট নির্বাচনে টানা ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এবং তার দল বিশাল পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে। অন্যদিকে নতুন ইতিহাস গড়েছেন মধ্যডানপন্থী নেতা পিটার মাজিয়ার। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্যমতে, ১৯৯ আসনের পার্লামেন্টে ৯৮ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে পিটার মাজিয়ারের তিসজা পার্টি ১৩৮টি আসন লাভ করেছে। বিপরীতে অরবানের জাতীয়তাবাদী দল ফিদেজ পেয়েছে মাত্র ৫৫টি আসন।

এছাড়া কট্টর ডানপন্থী দল আওয়ার হোমল্যান্ড পেয়েছে ৬টি আসন। আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার আগেই পরাজয় স্বীকার করে পিটারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অরবান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পিটার জানান যে ফলাফল আসতে শুরু করার পর অরবান নিজেই তাকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এই ঐতিহাসিক বিজয়ের পর রাজধানী বুদাপেস্টের দানিয়ুব নদীর তীরে হাজারো সমর্থক জড়ো হয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন। সেখানে পিটার মাজিয়ার বলেন যে আজকের নির্বাচনে জনগণ নতুন ইতিহাস রচনা করেছে।

তারা আর অপেক্ষা না করে নিজেরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পথ বেছে নিয়েছে। দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন যে আজ রাতে মিথ্যার পতন ও সত্যের জয় হয়েছে। তিনি দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ করে একটি নতুন হাঙ্গেরি গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। অন্যদিকে ভিক্টর অরবান এই ফলাফলকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান যে জনগণ এবার তাদের শাসনভার দেয়নি, তাই বিরোধী দল হিসেবে তারা দেশ ও জাতির সেবা করে যাবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে দীর্ঘদিনের একক প্রভাব হারিয়ে হাঙ্গেরির রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বুদাপেস্টভিত্তিক বিশ্লেষক গারগেলি রেজনাই জানান যে এতদিন ফিদেজের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে অরবান একচ্ছত্রভাবে শাসন করতে পেরেছিলেন, কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতির বদল ঘটবে। এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল নজিরবিহীন। দেশটির জাতীয় নির্বাচন দপ্তর জানিয়েছে যে ভোট পড়েছে ৭৭ শতাংশের বেশি, যা কমিউনিস্ট পরবর্তী হাঙ্গেরির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ধারণা করা হচ্ছে এই ফলাফল শুধুমাত্র হাঙ্গেরির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউক্রেনসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।

এস এম/ ১৩ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language