মধ্যপ্রাচ্য

গাজায় তীব্র খাদ্যসংকট: চাহিদার অর্ধেকেরও কম আটা মিলছে

গাজা, ১৩ এপ্রিল – ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় খাদ্যসংকটের তীব্রতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ টন আটার প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে সেখানে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২০০ টন। এর ফলে লাখ লাখ ফিলিস্তিনির খাদ্যনিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটার সরবরাহ সীমিত করে রেখেছে। তারা পরিকল্পিতভাবে গাজার বাসিন্দাদের অনাহারে রাখার নীতি বাস্তবায়ন করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রতিদিন ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের কথা। কিন্তু বাস্তবে আগের সরবরাহের মাত্র ৩৮ শতাংশ ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এতে খাদ্যসহ জরুরি সহায়তা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দাতব্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন ইতিমধ্যে আটা সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। সংস্থাটি আগে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ টন আটা সরবরাহ করত।

অন্যদিকে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম তাদের দৈনিক সরবরাহ ৩০০ টন থেকে কমিয়ে ২০০ টনে নামিয়ে এনেছে। এছাড়াও আরও কয়েকটি দাতা সংস্থা রুটি ও আটা বিতরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে। চলমান এই সংঘাতে গাজার ২৪ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ১৯ লাখ এখনও বাস্তুচ্যুত অবস্থায় অস্থায়ী তাঁবুতে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। টানা হামলায় ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তাদের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকলেও পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। অভিযোগ উঠেছে যে, খাদ্য, চিকিৎসা সামগ্রী ও আশ্রয় উপকরণ সরবরাহের ক্ষেত্রে চুক্তির কোনো শর্তই ইসরায়েল মেনে চলছে না। গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৭২ হাজার মানুষ। যুদ্ধে উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

এস এম/ ১৩ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language