যুক্তরাষ্ট্রে নাসা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের রহস্যময় মৃত্যু নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

ওয়াশিংটন, ১১ এপ্রিল – যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং পারমাণবিক গবেষণার সঙ্গে জড়িত একাধিক বিজ্ঞানীর রহস্যময় মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি মাইকেল হিকস নামের নাসার এক জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানীর মৃত্যুর বিষয়টি এই তালিকাকে আরও দীর্ঘ করেছে। মাইকেল হিকস ক্যালিফোর্নিয়ার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরিতে ১৯৯৮ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে তার মৃত্যু হলেও মৃত্যুর কারণ বা ময়নাতদন্তের কোনো প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
তিনি ডার্ট, নিয়ার আর্থ অ্যাস্টেরয়েড ট্র্যাকিং, ডন মিশন ও ডিপ স্পেস ১ মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। হিকসের মৃত্যুতে কোনো নাশকতার প্রমাণ পাওয়া না গেলেও তার শোকবার্তায় অ্যালকোহলিকস অ্যানোনিমাসে অনুদানের অনুরোধ করা হয়েছিল। একই প্রতিষ্ঠানের তার সহকর্মী ফ্র্যাঙ্ক মাইওয়াল্ডও ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই মৃত্যুবরণ করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী গত কয়েক মাসে নাসা ও পারমাণবিক গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তি হয় নিখোঁজ হয়েছেন নতুবা খুন হয়েছেন।
নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরির সাবেক পরিচালক মোনিকা রেজা সম্প্রতি হাইকিং করতে গিয়ে নিখোঁজ হন। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল উইলিয়াম নীল ম্যাককাসল্যান্ড নিজ বাসা থেকে বেরিয়ে আর ফিরে আসেননি। জেপিএলের জ্যোতিঃপদার্থবিদ কার্ল গ্রিলমেয়ার নিজ বাড়ির বারান্দায় খুন হন। লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির কর্মী অ্যান্থনি শ্যাভেজ এবং মেলিসা ক্যাসিয়াস রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। ফিউশন শক্তি গবেষক নুনো লুরেইরো নিজ বাড়িতে খুন হন এবং ক্যানসার গবেষক জেসন থমাস কয়েক মাস নিখোঁজ থাকার পর একটি হ্রদ থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হন।
স্বল্প সময়ের মধ্যে একই ধরনের এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি বিষয়টিকে অত্যন্ত রহস্যময় করে তুলেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মহলেও এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এফবিআইয়ের সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ক্রিস সুয়েকারের মতে এসব ঘটনাকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তিনি মনে করেন এই বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছিলেন যা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে।
এস এম/ ১১ এপ্রিল ২০২৬









