উত্তর আমেরিকা

উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, অস্তিত্ব নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

ওয়াশিংটন, ১০ এপ্রিল – ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে ইরানের পাল্টা আঘাতে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত এক ডজন সামরিক স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘাঁটিগুলোর অস্তিত্ব এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুবিধার চেয়ে বেশি ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক একদল বিশেষজ্ঞ এমনটাই অভিমত প্রকাশ করেছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রথম প্রকাশিত তথ্যে এই ঘাঁটিগুলোকে প্রায় বসবাসের অযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য রাজনৈতিক বিজ্ঞান প্রকল্পের পরিচালক মার্ক লিঞ্চ জানিয়েছেন, এসব ঘাঁটি মূলত এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের প্রধান ভিত্তি ছিল। কিন্তু মাত্র এক মাসের মধ্যে ইরান কার্যত সেগুলোকে অকার্যকর করে দিয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর প্রকৃত ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো সামনে আসেনি। এসব সামরিক স্থাপনায় প্রবেশাধিকার অত্যন্ত সীমিত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং বাহরাইন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও ওমানের মতো উপসাগরীয় দেশগুলো এই নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।

গত মাসে উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্রের ছবি বা ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ করে। অনেকের ধারণা, মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি আড়াল করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তারা তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত ঘাঁটিগুলো যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করতে দেবেন না। মার্ক লিঞ্চ আরও জানান, অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলো প্রকৃতপক্ষেই ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বাহরাইনে অবস্থিত পঞ্চম নৌবহরের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেন।

তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত ১৯টি সামরিক স্থাপনার অস্তিত্ব রয়েছে। মিশর থেকে ইরাক এবং উত্তর সিরিয়া থেকে দক্ষিণ ওমান পর্যন্ত বিস্তৃত এসব ঘাঁটিতে প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে।

নব্বইয়ের দশকের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর তেল এবং পেট্রোডলারের বিনিময়ে নিরাপত্তা প্রদানের চুক্তির ভিত্তিতে এই মার্কিন উপস্থিতির ব্যাপক বিস্তার ঘটে। কিন্তু বর্তমানে সেই সমীকরণ ভেঙে পড়েছে।

জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী পরিচালক শানা আর মার্শাল বলেন, এ ধরনের লেনদেনভিত্তিক সম্পর্কের সুবিধা যখন কমে যায় তখন তা ভেঙে পড়াই স্বাভাবিক।#

দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনীতি বিষয়ক একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী সহসভাপতি ত্রিতা পারসি মনে করেন, গত সাত সপ্তাহের পরিস্থিতি উপসাগরীয় দেশগুলোকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে তারা আর নিরাপত্তার জন্য পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করতে পারবে না। এসব সামরিক স্থাপনা ইরানের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং উল্টো হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপসাগরীয় দেশগুলো ভবিষ্যতে বিকল্প কৌশল গ্রহণ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এনএন/ ১০ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language