পর্যটন

ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়, ৯ লাখ সমাগমের আশা

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, ২৫ মার্চ – ঈদুল ফিতর এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা অবকাশ যাপনে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শনিবার ঈদের দিন রাত থেকেই দেশি বিদেশি পর্যটকের আগমন শুরু হয়েছে এবং তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, চলতি ছুটিতে এই পর্যটন নগরীতে ৯ লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটবে এবং কয়েকশ কোটি টাকার ব্যবসা হবে। সৈকতের লাইফগার্ড, বিচ কর্মী এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদের দিন রাত থেকেই দলে দলে মানুষ কক্সবাজারে আসছেন। পর্যটকবাহী বাস, ইজিবাইক এবং অটোরিকশার চাপে বাইপাস সড়ক, কলাতলী ডলফিন মোড়, হোটেল মোটেল জোন, লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্টে ব্যাপক ভিড় তৈরি হয়েছে।

বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মাঠে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করার পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত টহল দিচ্ছেন। কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কেপায়েত উল্লাহ জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে তারা সচেষ্ট আছেন এবং পর্যটন স্পটগুলো সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। সপরিবারে বেড়াতে আসা ইব্রাহিম মুহাম্মদ জানান, তিনি প্রবাস থেকে ফিরে টানা ছুটিতে কক্সবাজার এসেছেন এবং পুরো এলাকা পর্যটকে ভরপুর। ঢাকা থেকে আসা রবিউল আলম এবং আরেক পর্যটক মোহাম্মদ সাব্বিরও সৈকতের চমৎকার পরিবেশ উপভোগ করার কথা জানিয়েছেন।

পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিক্রিও কয়েকগুণ বেড়েছে বলে জানান চটপটি বিক্রেতা মো. সেলিম। কক্সবাজার ট্যুরস অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়ছে। হোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, ঈদের দিন থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ কক্সবাজারে এসেছেন। ২৯ মার্চ পর্যন্ত এই সংখ্যা ৯ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামলাতে পুলিশ ও র‌্যাব সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছে।

সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। কক্সবাজারের পাশাপাশি হিমছড়ি, ইনানী, মহেশখালী, সাফারি পার্ক এবং টেকনাফ সমুদ্রসৈকতেও পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম দেখা গেছে। সাগরে ঢেউয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সমুদ্রস্নানে ঝুঁকি বেড়েছে। সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার ফিল্ড ম্যানেজার মো. ইমতিয়াজ আহমেদ পর্যটকদের লাইফগার্ডের নির্দেশনা মেনে সমুদ্রে নামার পরামর্শ দিয়েছেন। পর্যটকদের হয়রানি রোধে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, অতিরিক্ত কক্ষভাড়া এবং খাবারের দাম নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে রয়েছে এবং অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এস এম/ ২৫ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language