শহীদ জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণার স্মৃতি অম্লান রাখতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী

চট্টগ্রাম, ২৪ মার্চ – সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চির অম্লান করে রাখা হবে। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর আক্রমণের পর সারা দেশে যখন নেতৃত্বহীনতা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল, তখন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শহীদ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, সেই স্মৃতিবিজড়িত স্বাধীনতার ঘোষণা আমাদের ইতিহাসের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলেও তা সেভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। নিতাই রায় চৌধুরী জানান, তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট থেকে বিদ্রোহ করে বেরিয়ে এসে এই ঘোষণার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে নতুন গতির সঞ্চার করেছিলেন।
এর ফলে দেশের মানুষের মনে সাহস ও উদ্দীপনা ফিরে আসে। এই মহান ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এবং শহীদ জিয়ার স্মৃতি রক্ষায় নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মন্ত্রী আরও বলেন, কোনো জাতি তার ইতিহাস ভুলে গেলে সেই জাতির অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে না। তাই মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় স্মৃতি এবং বীরত্বগাথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরা জরুরি। তাঁর মতে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি সর্বজনীন জনযুদ্ধ, যার মাধ্যমে বাঙালি জাতি তাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অর্জন করে।
এই চূড়ান্ত বিজয়ের পেছনে ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলনের সূচনা, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগ, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনের ধারাবাহিক সংগ্রাম জড়িত রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তিনি নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেন।
এই দুটি ঘটনাই আমাদের ইতিহাসের শোক ও গৌরবের অংশ। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এবং জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে একই ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার বিষয়টি বর্তমানে সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া এখানে একটি আধুনিক স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন, প্রয়োজনে শহীদ জিয়ার ভাস্কর্য নির্মাণ এবং ঐতিহাসিক সম্প্রচারের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। দর্শনার্থীরা যেন প্রথমে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র পরিদর্শন করে পরে জাদুঘরে যেতে পারেন, সে অনুযায়ী একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী ভাস্কর দেওয়ানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কালুরঘাট পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন ও জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন।
এ এম/ ২৪ মার্চ ২০২৬









