ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ টাকা, সর্বোচ্চ সুদ ২৫ শতাংশ

ঢাকা, ১৫ মার্চ – বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা জারি করেছে। নতুন নির্দেশনায় ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে ঋণের সীমা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর আগে ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ ছিল। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এখন থেকে ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে জামানতহীন ২০ লাখ টাকা এবং জামানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা ঋণ দিতে পারবে। আগে এই সীমা ছিল যথাক্রমে ১০ লাখ এবং ২৫ লাখ টাকা। কার্ডধারীরা তাঁদের মোট ঋণসীমার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ নগদে উত্তোলন করতে পারবেন।
দৈনন্দিন জীবনে নগদ অর্থ বহনের বিকল্প হিসেবে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং গ্রাহক অধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে এই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন নীতিমালায় মাশুল এবং সুদের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ক্রেডিট কার্ডে ঋণের সর্বোচ্চ সুদ হবে ২৫ শতাংশ এবং এই সুদ কেবল বকেয়া টাকার ওপর আরোপ করা হবে, মোট বিলের ওপর নয়। ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটার ক্ষেত্রে সুদহীন সুবিধা থাকলেও নগদ অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে এমন কোনো সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। কার্ড সচল করার আগে কোনো ধরনের ফি বা মাশুল আদায় করা যাবে না। বিল পরিশোধে বিলম্ব হলে বিলম্ব ফি মাত্র একবারই আরোপ করা যাবে।
সুদহার বা অন্য কোনো চার্জ পরিবর্তনের অন্তত ৩০ দিন আগে কার্ডধারীকে লিখিতভাবে বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অবহিত করতে হবে। গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং হয়রানি বন্ধে পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যাংক বা রিকভারি এজেন্ট গ্রাহককে মানসিক বা শারীরিক হয়রানি কিংবা হুমকি দিতে পারবে না। কার্ডধারীর পরিবার, বন্ধু বা রেফারেন্স দেওয়া ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা বাধ্যতামূলক।
পাওনা আদায়ের জন্য ফোন কল বা সরাসরি যোগাযোগ কেবল অফিস চলাকালীন সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। কার্ড হারিয়ে বা চুরি গেলে দ্রুত ব্লক করার জন্য ব্যাংকগুলোকে ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা হিসেবে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রধান কার্ডধারীর ওপর নির্ভরশীল ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা সম্পূরক কার্ড ব্যবহার করতে পারবে। আবেদনকারীর ইলেকট্রনিক টিন সনদ এবং একটি পরিষ্কার সিআইবি রিপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক। একটি স্বচ্ছ ক্যাশলেস পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ার লক্ষ্যে ২০০৪ সালের পুরোনো নীতিমালাটি বাতিল করে এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এস এম/ ১৫ মার্চ ২০২৬









