প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ১৮ মাস শেষে বিদায় নিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

ঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারি – অবশেষে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে এই অধ্যায়ের সমাপ্তি হয়। ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে জাতি বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে বরণ করে নিয়েছিল। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই ব্যক্তিত্বের শাসনামলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাবে, এমনটাই ছিল সাধারণ মানুষের আশা।
তবে বিদায়লগ্নে সেই প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণ মেলাতে গিয়ে উঠে আসছে নানামুখী বিশ্লেষণ ও হতাশার চিত্র। গত দেড় বছরে দেশে মব জাস্টিস বা সংঘবদ্ধ সহিংসতা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে সাধারণ মানুষ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এক প্রকার জিম্মি দশায় সময় পার করেছে। অর্থনৈতিক খাতেও বড় ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। বিদেশি পরামর্শকদের নিয়োগ ও নানা সংস্কারের কথা বলা হলেও বাস্তবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, শিল্প কারখানায় গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বেসরকারি খাত সংকুচিত হওয়ায় এবং ব্যবসায়ীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার ফলে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে বহু কারখানা বন্ধ হয়ে প্রায় দেড় কোটি মানুষ বেকার হয়েছে এবং দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে আরও দুই কোটি মানুষ। শিক্ষাঙ্গণেও স্থিতিশীলতা ছিল না। ক্লাস বর্জন, সড়ক অবরোধ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। গণমাধ্যমের ওপরও নানামুখী চাপ ছিল দৃশ্যমান। বিভিন্ন মিডিয়া হাউসে হামলা এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও সরকার উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে যে, দেশের সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি হলেও এই সময়ে লাভবান হয়েছে গ্রামীণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। ড. ইউনূসের বিদেশ সফরগুলো দেশের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি উন্নয়নে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে। এই ১৮ মাসে গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি অনুমোদন, গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেসের জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স প্রাপ্তি এবং গ্রামীণ টেলিকমের ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর অনুমতি মিলেছে। এছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের কর মওকুফ এবং ব্যাংকের পরিচালনায় সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমানোর মতো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। একইসময়ে ড. ইউনূস ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে থাকা শ্রম আইন লঙ্ঘন ও অর্থপাচারের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৮ মাসের এই শাসনামলকে অনেকে স্বপ্নভঙ্গ ও অব্যবস্থাপনার সময়কাল হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
এস এম/ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









