দুই দশকের মধ্যে এডিপি বাস্তবায়নে সর্বনিম্ন রেকর্ড, ব্যয় কমেছে ৯ হাজার কোটি টাকা

ঢাকা, ১৮ ফেব্রুয়ারি – চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়নে বড় ধরনের ধস নেমেছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের তথ্যে দেখা যায় জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছে মাত্র ২১ দশমিক ১৮ শতাংশ। বিগত দুই দশকের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন বাস্তবায়নের রেকর্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই হার ছিল ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং তার আগের বছরগুলোতে ছিল ২৭ থেকে ৩০ শতাংশের বেশি। পরিসংখ্যানে দেখা যায় সাত মাসে উন্নয়ন ব্যয় হয়েছে ৫০ হাজার ৫৫৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৯ হাজার ৩২০ কোটি টাকা কম। সরকার ইতিমধ্যে সংশোধিত এডিপির আকার কাটছাঁট করে দুই লাখ কোটি টাকায় নামিয়ে এনেছে। মূল এডিপি থেকে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে যেখানে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ কমেছে।
স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৭৩ শতাংশ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা খাতে ৫৫ শতাংশ বরাদ্দ কমানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায় পরিবেশ ও সংসদবিষয়ক সচিবালয়সহ ছয়টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বরাদ্দের ১০ শতাংশও বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এর মধ্যে সংসদবিষয়ক সচিবালয় কোনো অর্থই খরচ করতে পারেনি। বিপরীত চিত্র দেখা গেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে যারা বরাদ্দের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করে ১৪৫ শতাংশ বাস্তবায়ন দেখিয়েছে।
এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বেশ কিছু বিভাগ ৪০ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে অর্থবছরের শুরুতে জুলাই মাসে সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা নেমে আসে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থবছরের বাকি পাঁচ মাসে প্রায় ৭৯ শতাংশ কাজ শেষ করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এস এম/ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









