জাতীয়

ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াতের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: গুলি ও অগ্নিসংযোগ, আহত ৫০

পাবনা, ১২ ফেব্রুয়ারি – পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ধাওয়া পালটা ধাওয়া, গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে পাবনা ৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলসহ উভয় দলের অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের জগির মোড় ও চর আলহাজ্ব মোড় এলাকায় এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দুই দিন আগে দলীয় বিষয় নিয়ে সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মক্কেল মৃধার সঙ্গে স্থানীয় জামায়াত নেতা ইকবাল হোসেনের বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের নেতৃত্বে দলটির শতাধিক নেতাকর্মী সাহাপুর ইউনিয়নের আলহাজ্ব মোড় এলাকায় যান। জগির মোড় এলাকায় কৃষক দলের সভাপতি মক্কেল মৃধা ও তার ছেলে মনিরুল ইসলামকে দেখে জামায়াতের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খবর পেয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরাও পাল্টা হামলা চালায়। পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী চর আলহাজ্ব মোড় এলাকায় দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে ফের সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় গুলিবর্ষণ, জামায়াত নেতার গাড়ি ভাঙচুরসহ প্রায় ১০টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। আহতদের মধ্যে জামায়াত নেতা আবু তালেব মণ্ডল, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম, কৃষক দল নেতা মক্কেল মৃধাসহ অনেকে রয়েছেন। আহতরা পাবনা জেনারেল হাসপাতাল ও ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। জামায়াত নেতা আবু তালেব মণ্ডল দাবি করেন, তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুর রহমান জানান, জামায়াতের কোনো কর্মসূচি ছিল না বরং অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

এসএএস/ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language