মুক্তিযুদ্ধ

শর্তভঙ্গের দায়ে ১৫ হাজার মুক্তিযোদ্ধার ভিডিও সাক্ষাৎকার বাতিল, আদালতের দ্বারে ঠিকাদার

ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি – চুক্তির নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হওয়ার কারণ দেখিয়ে প্রায় ১৫ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার ভিডিও সাক্ষাৎকার বাতিল করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিলও আটকে দেওয়া হয়েছে। ফলে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের এই বিপুল সংখ্যক ভিডিও এখন হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানোর পরও কাজ সন্তোষজনকভাবে শেষ না হওয়ায় অসমাপ্ত অবস্থাতেই এর ইতি টানা হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত ও শর্ত ভঙের অভিযোগ মানতে নারাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (এমটিআই)। পাওনা আদায়ের দাবিতে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পর্যালোচনায় দেখা গেছে প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে জমা দেওয়া প্রায় ১৪ হাজার ৬৪০টি সাক্ষাৎকারের ভিডিও নির্ধারিত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়নি। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, ভিডিওগুলো যেভাবে সম্পাদনা করার কথা ছিল, তা করা হয়নি এবং শব্দ ও ছবির মানও যথাযথ নয়। এই কারণে শুধু সাক্ষাৎকারগুলোই নয়, প্রায় ৫০ কোটি টাকার পুরো প্রকল্পই বাতিল করা হয়েছে। এর বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, তারা নির্ধারিত মানদণ্ড মেনেই কাজ জমা দিয়েছে এবং প্রথম ধাপে গৃহীত ভিডিওগুলোর মতোই দ্বিতীয় ধাপের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিল না পাওয়ায় তারা কর্মীদের পারিশ্রমিক দিতে পারছে না এবং বাধ্য হয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘বীরের কণ্ঠে বীরগাথা’ শিরোনামে ৪৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল ৮০ হাজার মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকার, ইউটিউব কনটেন্ট ও প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ২০২৩ সালের ১৬ মে এমটিআই-এর সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের চুক্তি হয়, যেখানে ১৯টি নির্দিষ্ট প্রশ্নের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার গ্রহণের শর্ত ছিল।

প্রকল্প পরিচালক আফরাজুর রহমান জানিয়েছেন, বাতিলকৃত ভিডিওগুলো যাচাই-বাছাই করেই বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শর্ত ছিল ভিডিওগুলো ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে হতে হবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারযোগ্য হতে হবে, কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা মানেনি। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজমের নির্দেশে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটিও ভিডিওগুলো মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ বলে মত দিয়েছে। অন্যদিকে এমটিআই-এর ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার আজমল কবির রাব্বি অভিযোগ করেছেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মেনেই তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছেন এবং প্রথম ধাপের মতো করেই ভিডিও জমা দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে আইনি লড়াই চলছে।

এসএএস/ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language