জাতীয়

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন: শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রত্যাশায় জনগণ

ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি – জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র তিন দিন বাকি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের জনগণ আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কাদের হাতে তুলে দেবে, তা নির্ধারণ করবে।

এবারের নির্বাচনে কোন দল বিজয়ী হবে তা নিয়ে যেমন অনিশ্চয়তা রয়েছে, তেমনি বিরোধী দলে কারা থাকবে সেটিও রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। গণতন্ত্রের স্বার্থে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তা এবার তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারি ও বিরোধী দল উভয়ের ভূমিকাই অনস্বীকার্য। বিরোধী দল ছাড়া সংসদ অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং সরকার একতরফা বা কর্তৃত্ববাদী হওয়ার সুযোগ পায়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দলের উপস্থিতির কারণে সরকারের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বজায় ছিল।

তবে ২০০৮ সালের পরবর্তী সময় থেকে বিরোধী দলের ক্রমহ্রাসমান ভূমিকা ও ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে বলে মনে করেন অনেকে। গত দেড় দশকে শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে উত্তরণের জন্য জনগণ এবার একটি ভারসাম্যপূর্ণ সংসদ প্রত্যাশা করছে। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের যে দাবি উঠেছে, তা বাস্তবায়নে একটি জনমুখী বিরোধী দল থাকা জরুরি। নির্বাচনে যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, সংসদে সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া এবং জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করার জন্য একটি বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর প্রয়োজন। তাই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের হিসাবের পাশাপাশি শক্তিশালী বিরোধী দল গঠনের বিষয়টিও সমান তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এস এম/ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language