বিয়ে বহাল থাকলে সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে নয়

ঢাকা, ১১ জানুয়ারি – বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় সালিশি কাউন্সিলের লিখিত পূর্বানুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বা পরবর্তী বিবাহ করা যাবে না—এ সংক্রান্ত বিধান বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে রায় দিয়েছেন বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ৬ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি রিট আবেদন করা হয়। ওই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকলে সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ছাড়া তিনি আরেকটি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন না এবং অনুমতি ছাড়া সম্পন্ন বিবাহ নিবন্ধনযোগ্য হবে না।
আইনে আরও বলা হয়েছে, অনুমতির জন্য আবেদন করতে হলে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণ এবং বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতির বিষয়টি উল্লেখ করতে হবে। সালিশি কাউন্সিল প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত মনে করলে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিতে পারবে। অনুমতি ছাড়া বহুবিবাহ করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে; এতে দেনমোহর তাৎক্ষণিক পরিশোধ এবং এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি পারিবারিক জীবন রক্ষার স্বার্থে বহুবিবাহ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের প্রশ্নে হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন। পাশাপাশি স্ত্রীদের সমঅধিকার নিশ্চিত না করে বহুবিবাহের অনুমতি কেন অবৈধ হবে না—তাও জানতে চাওয়া হয়।
রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে তা খারিজ করেন হাইকোর্ট। ফলে বহুবিবাহ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন বহাল থাকল বলে জানিয়েছেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তবে তিনি এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এনএন/ ১১ জানুয়ারি ২০২৬









