উত্তর আমেরিকা

জেলেনস্কিকে ‘স্বৈরশাসক’ বলেছেন, তা বিশ্বাস করতে পারছেন না ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ২৮ ফেব্রুয়ারি – ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্পর্কে আগের মন্তব্য থেকে সরে এসেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মাত্র এক সপ্তাহ আগে, ট্রাম্প জেলেনস্কিকে ‘একজন স্বৈরশাসক’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার তিনি সেই মন্তব্য থেকে পিছিয়ে আসেন। এক সাংবাদিক তাকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কি এখনো জেলেনস্কিকে স্বৈরশাসক মনে করেন? তখন ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কি সেটা বলেছিলাম? আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না যে আমি তা বলেছি।’ খবর ইউএসএ টুডের।

আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে, তার আগে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কির স্টারমারকে ওভাল অফিসে স্বাগত জানান, যেখানে তারা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গে আসে। ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, আমার পুতিনের সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক আছে। আমি মনে করি জেলেনস্কির সঙ্গেও খুব ভালো সম্পর্ক আছে।

ট্রাম্পের প্রশাসন ইউক্রেনের কাছে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন একটি পুনর্গঠন বিনিয়োগ তহবিল গঠন করবে, যা ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ, হাইড্রোকার্বন ও অন্যান্য আহরণযোগ্য সম্পদ থেকে আয় সংগ্রহ করে পুনর্বিনিয়োগ করা হবে। ইউক্রেন এ তহবিলে তার আয়ের ৫০ শতাংশ জমা দেবে, যতক্ষণ না এটি ৫০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইউক্রেনকে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে।

গত সপ্তাহে, ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে জেলেনস্কিকে ‘নির্বাচনবিহীন স্বৈরাচার’ বলেছেন। জেলেনস্কি যুদ্ধের কারণে ২০২৪ সালের বসন্তের নির্বাচন বাতিল করেছিলেন। ট্রাম্প জেলেনস্কির জনপ্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এর পর জেলেনস্কি ট্রাম্পকে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর জন্য অভিযুক্ত করেন। বিবাদের মূল কারণ ছিল জেলেনস্কির বিরল খনিজ সম্পদের অধিকার দেওয়ার অনীহা।

সূত্র: কালবেলা
আইএ/ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫


Back to top button
🌐 Read in Your Language