ব্যবসা

হাল না ছাড়া রুকাইয়া ইসমাত

ঢাকা, ২৪ ডিসেম্বর – ফ্যাশন উদ্যোক্তা, সমাজকর্মী ও সাংবাদিক। এই তিন পেশাগত পরিচয়ের অধিকারী রুকাইয়া ইসমাত সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। স্বপ্নপূরণে তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে কঠিন পথ। সেই সংগ্রামের স্বীকৃতিও পেয়েছেন; এ বছর ন্যাশনাল ইয়ুথ ক্যারিয়ার কার্নিভাল অন্যতম উদ্যোক্তার পুরস্কার পেয়েছেন রুকাইয়া।

২০১৯ সালে নিজের নামে গড়ে তোলেন ফ্যাশন হাউজ ‘রুকাইয়া ইসমাত’। শুরুতে সবকিছু ভালোই চলছিল। হঠাৎ করোনা মহামারীর ধাক্কায় খানিকটা বিপাকে পড়েন। তবে হাল না ছেড়ে সেই কঠিন সময় পার করে এসেছেন।

দেশীয় জামদানি ও তাঁতের শাড়ি দিয়ে নিজের ফ্যাশন হাউজ সাজানোর পরিকল্পনা ছিল তার। ঐতিহ্যবাহী দেশীয় পোশাকের সঙ্গে তিনি যুক্ত করতে চেয়েছিলেন আধুনিক নকশার কাজ। সে অনুযায়ীই তৈরি করতে থাকেন নিজস্ব নান্দনিক নকশার পোশাক। প্রশংসাও পেতে থাকেন। তখনই করোনার হানা।

রুকাইয়া জানান, ফ্যাশন হাউজ চালুর মাত্র ছয় মাসের মাথায় করোনা সংক্রমণের কারণে সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই বেচাকেনা তখন বন্ধ। নিজস্ব পণ্য তৈরি করতে কয়েকটি কারখানার সঙ্গে চুক্তিও করেছিলেন। করোনার থাবায় সে কাজ থমকে যায়। বলতে গেলে নেমে আসে স্থবিরতা। সেই সময় ভবিষ্যতের কথা ভেবে ঝুঁকি নেন রুকাইয়া।

কঠিন পরিস্থিতি পাড়ি দেয়ার কথা জানান এভাবে, ‘চারপাশে তখন বিপদ। তবে দিশেহারা না হয়ে বিক্রি হবে না জেনেও কিছু তাঁতিকে নিজের পুঁজির টাকা দিয়ে কাজ চলমান রাখি। কিছু কিছু পণ্য তৈরি করে মজুদ করতে থাকি। এর মাধ্যমে অন্তত তাঁতিদের আমার নিজস্ব পণ্য তৈরির জন্য ধরে রাখা সম্ভব হয়। আর সেই সাহসী পদক্ষেপের ফল পেতেও খুব বেশি সময় লাগেনি।’

করোনায় বিকল্প মাধ্যম হিসেবে আরো অনেকের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে বেছে নেন এই উদ্যোক্তা। ঈদ উপলক্ষে কিছু পণ্য বিক্রি হয়। এরপর ধীরে ধীরে বিক্রি বাড়তে থাকে। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ‘রুকাইয়া ইসমাত’ ফ্যাশন হাউজকে।

এখন আধুনিক নকশায় তৈরি করা নিজস্ব সব দেশীয় পণ্য নিয়ে এই ফ্যাশন হাউজ প্রতিষ্ঠিত। আর সে কারণেই এ বছরের ন্যাশনাল ইয়ুথ ক্যারিয়ার কার্নিভালে ৪০ জন সফল উদ্যোক্তার মধ্যে ফ্যাশন উদ্যোক্তা হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন রুকাইয়া ইসমাত।

তার সমাজকর্মী ও সাংবাদিক পরিচয়ের কথা বলা হয়েছে আগেই। জানান, নারীর ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করছেন তিনি। এরই মধ্যে নিজেকে দক্ষ যুব নারী নেতৃত্বের জায়গায়ও নিয়ে গিয়েছেন। স্বপ্ন দেখেন দেশের আর্থ-সামাজিক ও অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ প্রভাব বিস্তারের জন্য দক্ষ নারী শ্রম তৈরি করার। একসঙ্গে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজাতি নারীদের উৎসাহিত করতে চান। রুকাইয়ার চাওয়া, তার মতোই অন্য নারীরাও যার যার জায়গা থেকে সম্ভাব্য খাতগুলোতে উদ্যোক্তা বা পেশাজীবী পরিচয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন।

সূত্র: বণিক বার্তা
আইএ/ ২৪ ডিসেম্বর ২০২২


Back to top button
🌐 Read in Your Language