বরিশাল

বিল বকেয়া, ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎ-পানি নেই বরিশাল সিটিতে

বরিশাল, ২২ সেপ্টেম্বর – বরিশাল সিটি করপোরেশনের কাছে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল বাবদ ওজোপাডিকোর পাওনা রয়েছে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। পাওনা আদায় করতে ওজোপাডিকো নগরীর সড়কবাতি ও পানির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই সিটি করোপারেশন এলাকায় অবস্থিত সড়কবাতি ও পানির লাইনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে আওয়ামী লীগ সকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিসিসির মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর কালীবাড়ী বোড়স্থ সেরনিয়াবাত ভবনে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন তিনি।

এদিকে, গত চারদিন ধরে সড়ক ও অলিগলিতে সড়কবাতি না জ্বলায় পুরো নগরী ভুতুড়ে এলাকায় পরিণত হয়। অন্যদিকে, পানির লাইনে চারদিন ধরে পানি না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানায়, বরিশাল সিটি করপোরেশনের এক দশক ধরে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল দাঁড়িয়েছে ৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ১৬ হাজার ৯৪৩ টাকায়। এর মধ্যে শওকত হোসেন হিরনের ২০০৮ থেকে ২০১৩ মেয়াদকালে ২০ কোটি ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার ১৫ টাকা, ২০১৩ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত আহসান হাবিব কামালের মেয়াদকালে ২১ কোটি ৭৪ লাখ ৫৫ হাজার ৯৩৯ টাকা এবং ২০১৮ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বকেয়া রয়েছে ১৫কোটি ৮ লাখ ৪৮ হাজার ১৯৫ টাকা। এর মধ্যে আহসান হাবিব কামালের সময়ে এক কোটি ৩৩ লাখ ২৮ হাজার ১২২ টাকা এবং বর্তমান মেয়র এক কোটি ৭৩ লাখ ৭০ হাজার ২০৭ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এ নিয়ে এক দশকে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের মধ্যে মাত্র তিন কোটি ছয় লাখ ৯৮ হাজার ৩২৯ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

এর আগেও ২০১৫ সালের মে মাসের বকেয়া আদায়ের লক্ষ্যে পানি ও সড়কবাতির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল ওজোপাডিকো। ওই সময়ে আহসান হাবিব কামাল এক কোটি ৭৩ লাখ ৭০ হাজার ২০৭ টাকা পরিশোধ করায় পুনরায় বিদুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। এছাড়া ১৫ সেপ্টেম্বর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের ৭৮ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। কিন্তু পরদিন একই লক্ষ্যে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

প্রেস ব্রেফিংয়ে বিসিসির মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, এক বছর পরই নির্বাচন। নির্বাচনের আগে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে নগরবাসী ভোগান্তিতে পড়বে। আর এতে করে আওয়ামী লীগ সরকারের বদনাম হবে। তাই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ওজোপাডিকো নগরীর সড়কবাতি ও পানির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। আমরা নিয়মিত বিল পরিশোধ করছি, তারপরও আমার বিদ্যুৎ লাইন কাটা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বিসিসির চেয়ে অন্যান্য সিটি করপোরেশন শক্তিশালী। তাদের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আমাদের চেয়েও বেশি। কিন্তু তাদের সড়ক ও পানির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি ওজোপাডিকো। আমাকে কোনো দিক থেকে ঘায়েল করতে না পেরে এই কাজটি করেছে।

মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ্ বলেন, ওজোপাডিকো পানির বিদ্যুতের লাইন কেটে দিয়েছে। রাস্তায় আমাদের চেহারা দেখাতে লজ্জা লাগছে। আমি জনগণের প্রতিনিধি, আমি তো এমন কোনো কাজ করবো না যাতে জনগণের ভোগান্তি হয়। বকেয়া বিলের কারণে দরকার হলে নগর ভবনের লাইন কেটে দিত। কিন্তু নগরবাসীর ভোগান্তি সৃষ্টি করে সড়কবাতির লাইন ও পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করা উচিত হয়নি।

এ বিষয়ে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) বরিশাল বিভাগের পরিচালনা ও সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী নুরু ইসলাম বিশ্বাস বলেন, সিটি করপোরেশনের কাছে ১১২টি হিসেবের অনুকূলে মোট ৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ১৬ হাজার ৯৪৩ টাকা পাওনা রয়েছে। আমরা তাদের বারবার নোটিশ দিয়েছি। এখন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে লাইন বিচ্ছিন্ন করতে বাধ্য হয়েছি।

ওজোপাডিকোর পরিচালনা ও সংরক্ষণ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এটিএম তারিকুল ইসলাম বলেন, সিটি করপোরেশনের কাছে মোট ৫৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। মাত্র ৭৮ লাখ পরিশোধ করেছে সিটি করপোরেশন। পাওনা পরিশোধে অসংখ্যবার তাদেরকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সিটি করপোরেশন আশানুরূপ কোনো সাড়া না দেওয়ায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে ১৫টি লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সিটি করপোরেশন ৫৮টি সড়কবাতির লাইন ও পানির বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করার দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে ১৫টি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। যার একটিতেও পানি সংযোগ নেই, ওগুলোএ বিসিসিই বন্ধ করেছে।

সূত্র: কালের কন্ঠ
আইএ/ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২


Back to top button
🌐 Read in Your Language