ঢাকা

ঢাকাকে ঘিরে মেয়র তাপসের ‘মহাপরিকল্পনা’

ঢাকা, ৫ নভেম্বর- আজ থেকে ৩০ বছর পর ঢাকাবাসীর চাহিদা মূল্যায়ন করে দীর্ঘমেয়াদী একটি পরিকল্পনা প্রণয়নে হাত দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

এ প্রতিবেদককে সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই পরিকল্পনা সবিস্তারে তুলে ধরেছেন তিনি।

তাপস আশা করছেন, কয়েক মাসের মধ্যে এই মহাপরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি হয়ে যাবে, তারপর তিনি কাজে নামবেন।

ঢাকার খালগুলো উদ্ধার করে পানি নিষ্কাশন সচল রাখার পরিকল্পনা তিনি যেমন জানিয়েছেন; রাজধানীর গণপরিবন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনার বড় কাজেও হাতে দিতে যাচ্ছেন বলে জানালেন তিনি।

তিন বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মেয়রের পদে বসা তাপস বলেছেন তার নতুন দায়িত্বের চ্যালেঞ্জের কথা।

মেয়রের কাজের নানা সীমাবদ্ধতার কথা পূর্বসূরিরা বললেও তাপস বলছেন, যেটুকু সুযোগ আছে, সেটাও অনেক, আর তা করেই নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে চান তিনি।

প্রতিবেদক: মেয়র হিসেবে ঢাকাবাসীর নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে কী পরিকল্পনা ধরে এগোচ্ছেন?

ফজলে নূর তাপস: স্বাধীনতার পর থেকে এই পর্যন্ত ঢাকা শহর নিয়ে কোনো ধরনের পরিকল্পনা কেউ নেয়নি। সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত নগরী ঢাকা শহর। যার ফলে নানা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে নগরবাসী। বিভিন্ন সংস্থা তাদের মর্জি মতো, তাদের প্রয়োজন মতো কিছু পরিকল্পনা করেছে, সেটা তাদের জন্য। কিন্তু সামগ্রিকভাবে ঢাকাকে আগামী ৩০ বছর পর আমরা কোন জায়গায় নিয়ে যেতে চাই? কত জনসংখ্যা আছে? সেই জনসংখ্যাকে আমরা কীভাবে বিন্যাস করবো? তাদের সুযোগ-সুবিধা আমরা কীভাবে নিশ্চিত করব?-এই সামগ্রিক বিষয় নিয়ে ঢাকার জন্য কোনোদিন কোনো পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়নি। এটায় আমরা হাত দিয়েছি। আগামী ৩০ বছর মেয়াদী মহাপরিকল্পনা আমরা প্রণয়ন করছি। আপনারা জেনে খুশি হবেন, খ্যাতনামা অনেক স্থপতি, অনেক নগরবিদ তারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে এগিয়ে এসেছে এবং আমাদেরকে সহযোগিতা করছেন। কাজ আরম্ভ হয়ে গেছে। আমরা আশা করছি, আগামী ডিসেম্বর নাগাদ আমরা একটা রূপরেখা পাবো। এটি একটি বৃহৎ কাজ, এই কাজটি যদি আমরা সম্পন্ন করতে পারি, তাহলে পরিকল্পিতভাবে একটি উন্নত পরিবেশে ঢাকাকে নিয়ে যেতে পারব।

প্রতিবেদক: নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে আপনি বলেছিলেন, দায়িত্ব গ্রহণের ৯০ দিনের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দাদের মৌলিক সব নাগরিক সুবিধা আপনি নিশ্চিত করবেন। এক্ষেত্রে কতটা পেরেছেন বলে আপনি মনে করেন?

ফজলে নূর তাপস: ঢাকাবাসীর মৌলিক চাহিদার মধ্যে ডেঙ্গু-চিকনগুনিয়া মশার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নর্দমা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় সফল ভূমিকা রেখেছি।

আপনারা জানেন যে একটি দুর্যোগময় অবস্থায় আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনাভাইরাস, সেই সময় গত ১৭ মে আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। সে সময় মহামারীর প্রকোপ আরও বেশি ছিল। আমরা আমাদের অনেক কিছুই শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছে। তারপরও আমরা সে সকল বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছি। গত বছর এই সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি আকারে ধারণ করেছিল। করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধিগুলোকে বাস্তবায়ন করা, প্রয়োগ করা এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়টি বিবেচনা করা, তার সাথে সাথে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমটা যাতে করে হয়, সেই দিকেই আমরা বেশি নজর দিয়েছি। আমরা পুরো কার্যক্রমকে ঢেলে সাজিয়েছি। আমরা বছরব্যাপী সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। যার কারণে আপনারা লক্ষ করেছেন এ মৌসুমে চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গুর প্রকোপ হয়নি এবং কোনো প্রাণহানি হয়নি। এই মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আগে ছিল সকালে একঘণ্টা আর বিকালে এক ঘণ্টা, সেই কার্যক্রম এখন সকালে চার ঘণ্টা আর বিকালে ৪ ঘণ্টা। যার কারণে আল্লার রহমতে ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ থেকে আমরা রক্ষা করতে পেয়েছি। এটা আমাদের সবচেয়ে বড় পজিটিভ সাইন বলে আমি মনে করি।

দ্বিতীয় যে মৌলিক সেবাটায় আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি, যেটা প্রথমটার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সংশ্লিষ্ট। সেটা হলো বর্জ ব্যবস্থাপনা। আমরাই একমাত্র শহর যে শহরের য়েখানে-সেখানে উন্মুক্তভাবে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। আমরা সেই জায়গাটিতে হাত দিয়েছি। প্রত্যেক ওয়ার্ডকে আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মধ্যে নিয়ে এসেছি। প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে বর্জ্য রাখার একটি করে স্থান থাকবে। কোন কোন জায়গায় বর্জ্য রাখা হবে, সেই এলাকা নির্ধারণ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপন করেছি। এই দীর্ঘ ৫০ বছরের মধ্যে মাত্র ২৪টি বর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ছিল। সেখানে আমরা ৭৫টি ওয়ার্ডে একটি করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র করছি। রাতের মধ্যেই বর্জ্য অপসারণ হয়ে যাবে। সকাল বেলা ঢাকাবাসী যখন কাজে বের হবে, তখন রাস্তায় কোনো ময়লা দেখবে না।

তৃতীয়ত আমরা নর্দমাগুলো পরিষ্কার করছি মাসে দুবার। ১ তারিখ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত সকল ওয়ার্ডভিত্তিক লোক নিয়োগ করে দিয়েছি, আবার ১৬ তারিখ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে, যাতে করে পানি বা ময়লা আটকে না থাকে। এটা আমরা নিশ্চিত করতে পারলে মশার আর প্রজনন বেশি করতে পারবে না। এছাড়া যে সব জলাশয় আমাদের সিটি করপোরেশনের আওতায় আছে, সেগুলো পরিষ্কার করে আমরা সেখানে হাঁস ও তেলাপিয়া মাছ চাষ করছি। মাসে একবার আবার পানি প্রবাহের জন্য জাল টানছি। এভাবে আমরা সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নিয়েছি।

চতুর্থ মৌলিক সেবা যেটা আমরা নিশ্চিত করেছি সেটা হলো আগে অনেক ওয়ার্ডেই রাতে বাতি জ্বলত না, আমরা সেটা নিশ্চিত করেছি। সব জায়গাতেই বাতি আছে। বাতি নষ্ট হয়ে গেলে এক ঘণ্টার মধ্যে নতুন বা ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে। এভাবে আমি বলতি পারি আমরা এই চারটি নাগরিক সেবা নিশ্চিত করেছি।

এক কথায় বলতে গেলে আমরা মশকটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে একটা পর্যায়ে নিয়ে এসেছি, নর্দমা পরিষ্কারের কাজটা করতে পেরেছি এবং রাতে পাড়া মহল্লাসহ সব সড়কে বাতি জ্বলছে।

প্রতিবেদক: আপনি যে পাঁচটি রূপরেখা দিয়েছিলেন, তার একটি হচ্ছে সচল ঢাকা। সেখানে আপনি যানজট অবসানে গণপরিবহন সুশৃঙ্খল ব্যবস্থায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে আমরা এখনও সড়কে কোনো পরিবর্তন দেখছি না। আপনি কিভাবে এগোচ্ছেন? এটা আসলে আপনি কতটা পারবেন?

ফজলে নূর তাপস: যানজট, জলাবদ্ধতা, রাস্তা সংস্কার- এগুলো আরেকটু বৃহৎ ব্যাপার। আমি নিজে একজন আশাবাদী লোক, কাজ না শুরু করলে বলা মুশকিল। এখানে কয়েকটি বিষয়ের মধ্যে আমাদের যে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন হচ্ছে, সেখানে সচল ঢাকার রূপরেখাটা আছে। আমরা দুটি দিকে কাজ আরম্ভ করেছি। একটি হলো ধীর গতির যানবাহন রিকশা, ভ্যান, ঠেলাগাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি এগুলোকে আমরা নিবন্ধনের আওতায় আনা আরম্ভ করেছি। নিবন্ধনের আওতায় আনার অর্থ হল এদের একটি শৃঙ্খলায় আনা। আমাদের মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন হলেই আমরা বলতে পারব, আমাদের কোন সড়কগুলোর অবস্থা কী রকম। কোনো সড়ক শুধু হেঁটে চলার, কোনো সড়কে ধীর গতির যানবাহন চলবে, আর কোনো সড়কে অন্য গাড়ি চলবে। এই কাজটি যেহেতু মহাপরিকল্পনার আওতায় পড়ে, সুতরাং একটা পর্যায়ে আমরা করতে পারব।

আরেকটা কাজ আরম্ভ করেছি, সেটি হলো আমাদের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক আরম্ভ করেছিলেন, বাস রুট র‌্যাশনালাইজেশন। আমাদের যত্রতত্রভাবে বাসরুটগুলো দেওয়া আছে, এখানে কোনো সমন্বয় নেই। আনিসুল হক সাহেবের যে রূপরেখা ছিল, সেটার আওতায় আমরা কাজ শুরু করেছি। এই মাসেই একটি সভা হয়েছিল, সেখানে আমরা বলেছি, আগে যে সভাগুলো হয়েছে সেখানে ফলপ্রসূ কিছুই হয়নি। আমরা একেবারেই নতুন করে শুরু করেছি। আগামী মাসে একটা সভা আছে। আমরা আশা করি, আগামী সভায় কিছুটা হলোও এগুতে পারব।

আমাদের ঢাকা শহরে যে বাসগুলো চলে, এই বাসগুলোর জন্য কোনো টার্মিনাল নাই। আমাদের শহরে যে টার্মিনালগুলো আছে, সেগুলো মূলত আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল। শহরের বাসগুলো কোথায় থাকবে, কোথায় যাবে, এর ন্যূনতম কোনো পরিকল্পনা নেই। এই জায়গাটাতেও আমি হাত দিতে চাই। সিটি টার্মিনাল না হলে এই বাসগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না, এমনকি রাখার জায়গা না হলে শৃঙ্খলায় আনা যাবে না। সেই জায়গাটায় আমরা নজর দিচ্ছি। আমরা আশাবাদী, এর সুরাহা আমরা করতে পারব। ঢাকাবাসীকে ধীরে ধীরে আমরা এর সুফলটা দিতে পারব।

ফজলে নূর তাপস দাবি করেছেন, মেয়রের দায়িত্ব নিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সফল তিনি।ফজলে নূর তাপস দাবি করেছেন, মেয়রের দায়িত্ব নিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সফল তিনি।

প্রতিবেদক: জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকার খালগুলো উদ্ধারের যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন, সেটা অগ্রগতি কতটুকু?

ফজলে নূর তাপস: আপনি জানেন যে, এখানে কিছুটা জটিলতা রয়েছে, ঢাকার খালগুলো যাদের নিয়ন্ত্রণে আছে, তারা দেখভাল করছে। যদিও আইনে বলা আছে ঢাকা শহরের সকল জলাশয়ের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের, কিন্তু সেই দায়িত্ব আমরা পালন করতে পারছি না। এরই মাঝে আমি কয়েকটি খাল নিয়ে একটি প্রকল্প প্রণয়ন করেছি, যার মাধ্যমে এগুলোকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাই। নিজেদের পরিচালনায় আনতে চাই, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চাই। তার সাথে সাথে নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই, যেন ঢাকাবাসীর উপভোগের জায়গা হয়। মূলত যাতে সঠিকভাবে পানিটা নিষ্কাশন হয়। এই খালগুলোর এখনও যে কয়েকটি রয়েছে, অনেকগুলোতে দখল হয়ে গেছে, এরপরেও যেগুলো রয়েছে, সেগুলো যদি আমরা সঠিকভাবে পরিচালিত করতে পারি, রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারি, তাহলে পানি নিষ্কাশনে একটি বড় ভূমিকা রাখবে। জিরানি খাল, মাণ্ডা খাল, শ্যামপুর খাল, কালুনগর খাল, তালতলায় একটি খাল আছে, যেটি প্রায় দখল হয়ে যাচ্ছে এবং ধোলাই খাল এই কয়টি খাল নিয়ে আমরা একটি প্রকল্প তৈরি করেছি। আমরা স্থানীয় সরকারের কাছে আমাদের পরিকল্পনা প্রেরণ করব, আমাদের নিয়ন্ত্রণে দিয়ে দিলে আমরা সেই খালগুলো রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনা করব।

প্রতিবেদক: ঢাকা উত্তরের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক বলেছিলেন, কাজ করতে গিয়ে তিনি দেখছেন যে মেয়রের অনেক কিছু করার ক্ষমতা নেই। আপনার কয়েক মাসের অভিজ্ঞতা কী বলে?

ফজলে নূর তাপস: আমি যতটুকু ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকারে আইনে দেখেছি, আমাদের কার্যাবলির যে দায়িত্ব দেওয়া আছে, সেটাই যদি আমরা সুষ্ঠুভাবে করতে পারি, তাহলে আমি মনে করি ঢাকাবাসী উপকৃত হবে।

প্রতিবেদক: ঢাকার এক সময়ের মেয়র মোহাম্মদ হানিফ এবং চট্টগ্রামের মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী দুজনই সিটি গভর্নমেন্টের প্রস্তাব তুলেছিলেন। আপনি কি মনে করেন, বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোয় মেয়রদের কার্যকর ভূমিকা রাখার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে? নাকি এতে সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন?

ফজলে নূর তাপস: এই বিষয়টা আমাদের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফও উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছিলেন মিনি সিটি গভর্নমেন্টের কথা। একটি পরিকল্পনার আওতায় আমরা আমাদের দায়িত্বটুকু সঠিকভাবে পালন করলে অনেক কিছুই সম্ভব। আসলে ঢাকা শহরের কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। ঢাকা শহর একমাত্র অপরিকল্পিত একটি নগরী। সেই জায়গাটায় আমরা হাত দিতে চাই। একটা পরিকল্পনা করে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমাদের কার্যাবলীগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারলে আমি মনে করি ঢাকা শহরের অনেক পরিবর্তন চলে আসবে। আমরা যে বলছি, ঐতিহ্যের ঢাকা, সুন্দর ঢাকা, সচল ঢাকা, সুশাসিত ঢাকা এবং উন্নত ঢাকা- আমরা যদি আমাদের ঐতিহ্যগুলোকে সংরক্ষণ করতে পারি, আমাদের ঢাকাকে সচল করে নিয়ে আসতে পারি, আমাদের যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আছে সেগুলোকে সংরক্ষণ করতে পারি, তাহলে আমি মনে করি আমাদের আগামী প্রজন্ম উপকৃত হবে।

ফজলে নূর তাপস মনে করেন, মেয়র হিসেবে যেটুকু সুযোগ আছে, সেটাও অনেক, আর তা করেই নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে চান তিনি।ফজলে নূর তাপস মনে করেন, মেয়র হিসেবে যেটুকু সুযোগ আছে, সেটাও অনেক, আর তা করেই নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে চান তিনি।

প্রতিবেদক: কুকুর অপসারণ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাতে শেষমেশ কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আপনারা?

ফজলে নূর তাপস: কোনো সভ্য দেশে বেওয়ারিশ জন্তু রাস্তাঘাটে থাকে না। এটা যেমনি ঝুকিপূর্ণ, তেমনি সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টকর বিষয়। ইতোমধ্যে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি ঢাকা শহর থেকে বেওয়ারিশ কুকুর উচ্ছেদ করব। তবে যেহেতু হাই কোর্টে একটা মামলা হয়েছে এবং যারা মামলা করেছে, তাদের সাথে আলোচনা হয়েছে, বৈঠক হয়েছে। আমরা সমন্বিতভাবে একটা ব্যবস্থাপনায় আনব। যেহেতু হাই কোর্টে মামলা আছে, এই ব্যাপারে আমি এখন কিছু বলতে চাই না।

প্রতিবেদক: সরকার প্রধানের স্বজন হিসেবে আপনি অন্য নগরীর মেয়রদের তুলনায় বেশি সুবিধা পান বলে কি মনে করেন?

ফজলে নূর তাপস: আমি মনে করি না, বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে। উত্তরের মেয়র এরই মাঝে ৪ হাজার কোটি টাকার পেয়ে গেছে। আমরা এখনও পাইনি। এটা আসলে উল্টো দিক মনে হয়, উল্টোটাই সত্য। এখানে আসলে কোনো বৈষম্য নেই। যৌথভাবেই আমরা কাজ করছি। অতিরিক্ত সুবিধা নেই।

প্রতিবেদক: আইনপ্রণেতা ছিলেন, এখন মেয়র হয়েছেন; দুটোর তুলনা করলে আপনার নিয়মিত জীবনযাপনে কি কোনো পরিবর্তন এসেছে? হলে সেটা কেমন?

ফজলে নূর তাপস: এখন তো কাজের পরিমাণ অনেক বেশি, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয়। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব ছিল একটু ভিন্নতর। এখানে সমন্বয় করা, আইন প্রয়োগ করা, সমস্যার কথা বিভিন্ন সংস্থার কাছে তুলে ধরা, পুঙ্খনাপুঙ্খভাবে নিজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের দায়িত্বও নিজেকেই নিতে হয়। সুতরাং ভিন্ন মাত্রার কাজ, অনেক বেশি দায়িত্ব, অনেক গুরু দায়িত্ব। আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

সূত্র: বিডিনিউজ২৪

আর/০৮:১৪/৫ নভেম্বর


Back to top button
🌐 Read in Your Language