কক্সবাজার

আ’লীগ নেতার মৎস্য ঘেরে তাণ্ডব, মাছ ও মালামাল লুট

কক্সবাজার, ০১ মে– কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার রামপুর মৌজার চিংড়িজোনে ৫০০ একর আয়তনের একটি মৎস্য ঘেরে হামলা, তাণ্ডব ও লুটপাট চালিয়েছে ডাকাত দল।

৩০-৩৫জনের ডাকাত দল শুরুতে ঘেরটিতে হানা দিয়ে অন্ততপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

ঘেরটির সহকারি ম্যানেজার ও কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে জিন্মি করে অফিসকক্ষের আলমিরা ভেঙ্গে মাছ বিক্রির নগদ ৫ লাখ টাকা এবং ঘেরের হিমাগারে রক্ষিত ৫ লাখ টাকার বেশি মাছ ও দুইটি মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে উপজেলার চিংড়িজোন রামপুর মৌজার চোয়ারফাঁড়িস্থ উত্তর এমএল ঘোনায় এ ঘটনা ঘটেছে।

এ নিয়ে শুক্রবার রাতে থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

ঘেরটির পরিচালক চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম।

তিনি জানান, পাঁচবছর আগে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান, অ্যাডভোকেট মুমিনুর রহমান, চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, মোয়াজ্জেম হোসেন শাওনসহ আমরা রামপুর মৌজার ৫০০ একর (প্রায় ১২শত কানি) আয়তনের উত্তর এমএল ঘোনাটি ইজারা নিই। আমাদের সঙ্গে জমি মালিক পক্ষের অংশিদার তৌফিকুল ইসলামও আছেন। ইজারা নেয়ার পর থেকে আমরা ঘেরটিতে বিপুল টাকা বিনিয়োগ করে মৎস্য চাষ করে আসছি।

ঘেরটির জমির মালিকপক্ষের অংশিদার এবং পরিচালক তৌফিকুল ইসলামের দাবি, মৎস্যঘেরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন চকরিয়া উপজেলার সাহারবিলের কোরালখালীর নবী হোছাইন প্রকাশ নবী চৌধুরী। তার নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জনের অস্ত্রধারী ডাকাত দল ঘেরটি দখলে নিতে গোলাগুলি করেছে। ওই সময় ঘেরের কর্মচারীরা নবী হোছাইন ও আবু তৈয়বকে লাইটের আলোতে দেখেছে।

তিনি বলেন, ডাকাত দলের তাণ্ডবের ঘটনাটি রাতেই চকরিয়া থানার ওসিকে জানাই। এরপর তার নির্দেশে থানার এসআই মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও ততক্ষণে ডাকাত দল মাছসহ মালামাল নিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ ব্যাপারে আমাদের পক্ষ থেকে থানায় এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের মোহাম্ম যুবায়ের বলেন, রামপুর চিংড়ি জোনের মৎস্য ঘেরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা অবহিত হওয়ার পর তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলে একদল পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়। ঘেরটির ইজারা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ঘটনার সুত্রপাত হয় বলে মনে হচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আরো তদন্ত করে পরবর্তী করণীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

সূত্র : যুগান্তর
এম এন / ০১ মে


Back to top button
🌐 Read in Your Language