হরমুজ প্রণালিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: মার্কিন সমর্থিত ৩ তেলবাহী ট্যাংকারে সামুদ্রিক মাইনের আঘাত

তেহরান, ০৮ নভেম্বর – বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল এবং প্রধান জ্বালানি পরিবহন রুট—হরমুজ প্রণালিতে ফের বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) দাবি অনুযায়ী, অনুমোদনহীন পথ ব্যবহার এবং নিজেদের ট্র্যাকিং ও আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম বন্ধ রাখায় সমুদ্রের মাইনের আঘাতে মার্কিন সহায়তাপ্রাপ্ত তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল হরমুজ প্রণালিতে?
প্রতিবেদন ও আইআরজিসির সূত্র অনুযায়ী, রোববার ভোরে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নির্ধারিত নিয়মকানুন ও নির্দিষ্ট রুট সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় ৩টি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল করছিল। জাহাজগুলো তাদের গতিবিধি গোপন রাখতে এবং আন্তর্জাতিক নজরদারি এড়াতে তাদের ট্র্যাকিং, নেভিগেশন ও পরিচয় শনাক্তকরণ (আইডেন্টিফিকেশন) সিস্টেম জেনেশুনেই বন্ধ রেখেছিল।
অননুমোদিত এই রুট দিয়ে পার হওয়ার সময়ই জাহাজগুলো সামুদ্রিক মাইনের মুখোমুখি হয় এবং ধারাবাহিক শক্তিশালী বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে প্রণালির জলরাশি। বিস্ফোরণের জেরে মুহূর্তেই জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায় এবং তীব্র কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে হরমুজ প্রণালির আকাশ ঢেকে যায়। ইরানের দক্ষিণ উপকূলের কাছাকাছি স্থানে জাহাজগুলো বর্তমানে দাউদাউ করে জ্বলছে।
তেহরানের কঠোর হুশিয়ারি
এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে চরম উত্তেজনা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বিশ্বের এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে হলে অবশ্যই পূর্বনির্ধারিত আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে।
আইআরজিসি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত হোক বা অন্য যেকোনো দেশের জাহাজই হোক না কেন—যদি কেউ ইরানের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের নিয়ম ভাঙার দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের পরিণতি এই ট্যাংকারগুলোর মতোই হবে।
বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর শঙ্কা
হরমুজ প্রণালি হলো বিশ্বের তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান লাইফলাইন। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য এই সংকীর্ণ জলপথটি ব্যবহার করতে হয়। এমতাবস্থায় এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে সামুদ্রিক মাইনের বিস্ফোরণ এবং সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে এই বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং বিভিন্ন পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবিগুলো যাচাই করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই ঘটনা বিশ্ব বাজারে জ্বালানির মূল্য ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এনএন/ ০৮ নভেম্বর ২০২৬







