সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চাপে বাংলাদেশ, আলোকস্বল্পতায় দ্বিতীয় দিন সমাপ্ত!

সিলেট, ০৬ নভেম্বর – মিরপুর টেস্টের হতাশা কাটিয়ে ওঠার মিশনে নেমে সিলেটেও ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের বড় সংগ্রহের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই মাত্র ৫১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে স্বাগতিকরা। তবে দিন শেষে তাওহীদ হৃদয় ও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের দায়িত্বশীল জুটিতে ভর করে কিছুটা সামাল দিয়েছে দল। আলোকস্বল্পতার কারণে দ্বিতীয় দিনের খেলা নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হওয়ায় ৩ উইকেটে ৮৮ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয়দের চেয়ে এখনও ২৬৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে টাইগাররা।
ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ ও হাসানের ফাইফার
এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের প্রথম ইনিংসে লড়াইয়ের পুঁজি গড়ে তোলে ৩৫৬ রান। সফরকারী ব্যাটারদের মধ্যে আমির জাঙ্গু দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করে ১৩৩ রান করেন। এছাড়া কেভিন উইকহ্যাম ৬১ ও জাস্টিন গ্রিভস করেন ৫১ রান। বাংলাদেশের পক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করে টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফাইফার তুলে নেন পেসার হাসান মাহমুদ, একাই শিকার করেন ৬ উইকেট।
উদ্বোধনী জুটিতে নতুন চমক ও ব্যর্থতা
মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে হাফসেঞ্চুরি করা নাঈম হাসানকে সিলেটে ওপেনিংয়ে নামানো হয়। নিয়মিত ওপেনার সাদমান ইসলাম অ্যাঙ্কলের চোটে পড়ায় তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে আসেন তিনি। অথচ এর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও কখনো ওপেন করেননি নাঈম। এই নতুন জুয়া অবশ্য টেকেনি বেশিক্ষণ। জেইডেন সিলসের করা পঞ্চম ওভারে মাত্র ৫ রান করে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। দলের রান তখন মাত্র ১৩।
১৩ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর মুমিনুল হকের অনুপস্থিতিতে (কনকাশন বদলির নিয়মের কারণে) তিন নম্বরে পদোন্নতি পান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে থিতু হতে পারেননি তানজিদ তামিমও। জাস্টিন গ্রিভসের বল উইকেটে ছেড়ে বেরিয়ে খেলতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দেন তিনি। অভিষিক্ত উইকহ্যামের আকাশে লাফিয়ে নেওয়া চমৎকার ক্যাচে ১৬ রানে থামে তানজিদের ইনিংস। ২২ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।
শান্তর বিদায়ে গভীর সংকট, হৃদয়ের প্রতিরোধ
অধিনায়ক শান্তর ওপর দায়িত্ব ছিল দলের ইনিংসকে মেরামতের। তাওহীদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে একটু একটু করে জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও সেই জুটি বেশিক্ষণ টেকেনি। শামার জোসেফের একটি দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন শান্ত (১৮)। দলীয় ৫১ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর উইকেটে আসেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম।
চাপের মুখে চতুর্থ উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন হৃদয় ও মুশফিক। দুজনে সতর্ক ব্যাটিংয়ে দলের স্কোর ৮৮ রান পর্যন্ত নিয়ে যান। আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে হৃদয় ২৯ এবং মুশফিক ১৬ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন। তাদের অবিচ্ছিন্ন ৩৭ রানের এই জুটিটি নিয়ে আগামীকাল তৃতীয় দিনে ফের ব্যাট করতে নামবে বাংলাদেশ।
এনএন/ ০৬ নভেম্বর ২০২৬







