ডেঙ্গুতে একদিনে ১,৮৬৬ আক্রান্ত, ৬ জনের মৃত্যু! চলতি বছরে আক্রান্ত ১ লাখ ৪২ হাজার ছাড়াল

ঢাকা, ০৪ নভেম্বর – দেশজুড়ে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন রেকর্ড ১,৮৬৬ জন রোগী। এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ডেঙ্গুর প্রকোপ এখন আর কোনো মৌসুমী সমস্যা নয়, বরং এটি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য এক নিয়মিত ও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মৃতদের বিভাজনে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন চারজন এবং খুলনা বিভাগে মারা গেছেন দুজন। অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন হওয়ার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে রাজধানী ও এর আশপাশের অঞ্চল। শুধু ঢাকা বিভাগেই আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৮৬৮ জন, যা মোট দৈনিক ভর্তির প্রায় অর্ধেক। এছাড়া চট্টগ্রামে ২৫৬ জন, খুলনায় ২১৫ জন, বরিশালে ২০৬ জন এবং রাজশাহীতে ১৭১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে চলতি বছরের ডেঙ্গু মৌসুম:
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬৫ জনে। এর মধ্যে কেবল অক্টোবর মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৭৪ জন, যা চলতি বছরের যেকোনো মাসের তুলনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এছাড়া সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন এবং জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে ১,৪২,৭৭৫ জনে। যদিও এর মধ্যে ১,৩৬,৩৯৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, তবুও নতুন রোগীর এই লাগাতার স্রোত দেশের হাসপাতালগুলোর ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশালের মতো জেলাগুলোতেও রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
করণীয় ও সতর্কতা:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, বরং বাসা-বাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরি। জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা এবং দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহারের বিকল্প নেই। বর্তমান এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষার্থে দ্রুত সমন্বিত ও জোরালো মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি।
এনএন/ ০৪ নভেম্বর, ২০২৬







